চিনের অস্ত্রের সবচেয়ে বড় খদ্দের পাকিস্তান, অস্ত্রে আত্মির্ভর ভারত: SIPRI

Saborni Mitra   | ANI
Published : Mar 09, 2026, 11:42 AM IST
india pakistan flag

সংক্ষিপ্ত

 Pakistan Arms Import:স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর নতুন রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তান সামরিক সরঞ্জামের জন্য প্রায় পুরোপুরি চিনের উপর নির্ভরশীল। পাকিস্তানের মোট অস্ত্র আমদানির ৮০ শতাংশই আসে বেজিং থেকে। অন্যদিকে, চিনের মোট অস্ত্র রপ্তানির ৬১ শতাংশই যায় পাকিস্তানে। 

পাকিস্তান এখন তাদের সামরিক সরঞ্জামের জন্য মূলত চিনের উপরই নির্ভরশীল। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর একটি নতুন রিপোর্ট বলছে, পাকিস্তানের মোট অস্ত্র আমদানির প্রায় ৮০ শতাংশই আসে বেজিং থেকে।

অস্ত্র আমদানিতে ৫ম পাকিস্তান

রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২১-২৫ সালের মধ্যে পাকিস্তান বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক দেশ ছিল। ২০১৬-২০ সালের মধ্যে তারা ছিল দশম স্থানে। এই সময়ের মধ্যে তাদের অস্ত্র আমদানি ৬৬ শতাংশ বেড়েছে, যা বিশ্বের মোট অস্ত্র আমদানির ৪.২ শতাংশ।

চিনা মালেই ভরসা ইসলামাবাদের

চিন বরাবরই পাকিস্তানের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী। ২০২১-২৫ সালে পাকিস্তানের আমদানিকৃত অস্ত্রের ৮০ শতাংশই চিন সরবরাহ করেছে, যা ২০১৬-২০ সালে ছিল ৭৩ শতাংশ। SIPRI জানাচ্ছে, চিন এই সময়ে ৪৭টি দেশকে অস্ত্র সরবরাহ করলেও, তাদের মোট রপ্তানির ৬১ শতাংশই গেছে একটি মাত্র দেশে – পাকিস্তানে।

ভারতের অবস্থান

এই রিপোর্টে ভারতের কথাও বলা হয়েছে। এই একই সময়ে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক দেশ ছিল। বিশ্বের মোট আমদানির ৮.২ শতাংশই করেছে ভারত।

SIPRI-এর রিপোর্ট বলছে, "চিন ও পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনার কারণেই ভারতকে বিপুল পরিমাণে অস্ত্র আমদানি করতে হয়। এই উত্তেজনার জেরে প্রায়ই সশস্ত্র সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেমনটা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মে ২০২৫-এ হয়েছিল। সেই সংঘাতে দুই পক্ষই বিদেশ থেকে আমদানি করা অস্ত্র ব্যবহার করেছিল।"

আত্মনির্ভর ভারত

তবে, রিপোর্টটি এও জানাচ্ছে যে গত দশকে ভারতের মোট অস্ত্র আমদানি কিছুটা কমেছে। এর একটি কারণ হল, দেশীয়ভাবে অস্ত্র ডিজাইন ও তৈরি করার ক্ষমতা ভারতের বাড়ছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, "২০১৬-২০ এবং ২০২১-২৫ সালের মধ্যে ভারতের অস্ত্র আমদানি ৪.০ শতাংশ কমেছে। এর কারণ হিসেবে ভারতের নিজস্ব অস্ত্র ডিজাইন ও উৎপাদনের ক্ষমতা বৃদ্ধিকে ধরা যেতে পারে। যদিও দেশীয় উৎপাদনে প্রায়শই অনেক দেরি হয়।"

SIPRI-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমের জন্য বিদেশি সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরশীল। রিপোর্টে বলা হয়েছে, "ফ্রান্স থেকে ১৪০টি যুদ্ধবিমান এবং জার্মানি থেকে ছয়টি সাবমেরিন কেনার সাম্প্রতিক অর্ডার বা পরিকল্পনা এটাই ইঙ্গিত দেয় যে ভারতের বিদেশি সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরতা সম্ভবত আরও বাড়বে।"

গত দশকে ভারত রাশিয়ার থেকে মুখ ফিরিয়ে ফ্রান্স, ইজরায়েল এবং আমেরিকার মতো পশ্চিমী দেশগুলো থেকে অস্ত্র কেনা বাড়িয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, "ভারতীয় অস্ত্র আমদানিতে রাশিয়ার অংশ ২০১১-১৫ সালে ছিল ৭০ শতাংশ, যা ২০১৬-২০ সালে কমে ৫১ শতাংশ এবং ২০২১-২৫ সালে আরও কমে ৪০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।"

SIPRI-এর আর্মস ট্রান্সফারস প্রোগ্রামের সিনিয়র রিসার্চার সিমোন ওয়েজেম্যান বলেছেন, চিনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ এশিয়ার দেশগুলির প্রতিরক্ষা বাজেট এবং অস্ত্র কেনার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।

ওয়েজেম্যান বলেন, "চিনের উদ্দেশ্য এবং তার ক্রমবর্ধমান সামরিক ক্ষমতা নিয়ে ভয় এশিয়ার অন্যান্য অংশে অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টাকে প্রভাবিত করছে, যারা এখনও আমদানিকৃত অস্ত্রের উপর নির্ভরশীল। উদাহরণস্বরূপ, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত যে বিপুল পরিমাণে অস্ত্র আমদানি করে, তার প্রধান কারণ হল চিনের থেকে অনুভূত হুমকি এবং চিনের অস্ত্রের প্রধান গ্রাহক পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সংঘাত। পরমাণু শক্তিধর দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ২০২৫ সালের সংঘর্ষে আমদানিকৃত অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল।"

বিশ্বের নিরিখে, রিপোর্টটি বলছে ২০২১-২৫ সালে শীর্ষ পাঁচ অস্ত্র আমদানিকারক দেশ হল ইউক্রেন, ভারত, সৌদি আরব, কাতার এবং পাকিস্তান। এই দেশগুলো একত্রে মোট আমদানির ৩৫ শতাংশ করেছে। এই সময়ে আমেরিকা বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ ছিল, যা বিশ্বের মোট রপ্তানির ৪২ শতাংশ। ফ্রান্স ৯.৮ শতাংশ শেয়ার নিয়ে দ্বিতীয় এবং রাশিয়া ৬.৮ শতাংশ নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৬-২০ সালের ২১ শতাংশ থেকে ২০২১-২৫ সালে রাশিয়ার বিশ্বব্যাপী অস্ত্র রপ্তানির শেয়ার কমে ৬.৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মূলত আলজেরিয়া, চিন এবং মিশরের মতো দেশে রপ্তানি কমে যাওয়াই এর কারণ।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে যে, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ার কারণে ১৯৬০-এর দশকের পর প্রথমবার ইউরোপ বিশ্বব্যাপী অস্ত্র আমদানিতে বৃহত্তম অংশীদার হয়ে উঠেছে। বিশ্বের মোট অস্ত্র আমদানিতে ইউরোপের অংশ ছিল ৩৩ শতাংশ, তারপরেই রয়েছে এশিয়া ও ওশেনিয়া (৩১ শতাংশ) এবং পশ্চিম এশিয়া (২৬ শতাংশ)।

 

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Passenger Smokes Beedi On Flight: বিমানের বাথরুমে বিড়িতে সুখটান দিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লেন যাত্রী, তারপর কী হল?
Today’s News in Bengali Live: চিনের অস্ত্রের সবচেয়ে বড় খদ্দের পাকিস্তান, অস্ত্রে আত্মির্ভর ভারত - SIPRI