
জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলায় নিরাপত্তা বাহিনী এক পাকিস্তানি নাগরিককে আটক করেছে। শুক্রবার নিয়ন্ত্রণ রেখা বা LoC-র কাছ থেকে তাকে ধরা হয়। আটক ব্যক্তির নাম মহম্মদ সাজ্জাদ এবং তার বাবার নাম রফিক। সে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK)-এর পোলাস এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
সূত্রের খবর, এলাকায় রুটিন নজরদারির সময় ওই ব্যক্তির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয়। এরপরই তাকে আটক করা হয়। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বর্তমানে তাকে জেরা করছে। ঠিক কী উদ্দেশ্যে সে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকেছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, কাটরায় একটি উচ্চ-পর্যায়ের যৌথ নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসন্ন শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী যাত্রার নিরাপত্তা ও অপারেশনাল প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতেই এই বৈঠক। SANJY 2026 এবং তীর্থযাত্রীদের সম্ভাব্য ভিড় বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এই বৈঠকের নেতৃত্বে ছিলেন উধমপুর-রেয়াসি রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (ডিআইজি) শিব কুমার শর্মা। বৈঠকে রেয়াসির এসএসপি, কাটরা-র এসপি, এসডিপিও, ভবন-এর ডিএসপি এবং সেনা, সিআরপিএফ, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো, সিআইডি, রেল, ট্র্যাফিক পুলিশ ও শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী শ্রাইন বোর্ডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে রেয়াসির এসএসপি একটি বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা জানান। কাটরা শহর, যাত্রাপথ এবং পবিত্র মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়।
যাত্রাপথে জওয়ানদের মোতায়েন, সিসিটিভি নজরদারি, আপৎকালীন ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন এজেন্সির মধ্যে সমন্বয়ের মতো বিষয়গুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়।
বিশেষ করে কাটরা শহর ও যাত্রাপথের আশেপাশের পাহাড়ি এলাকা, উঁচু শৈলশিরা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলির সুরক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ডিআইজি নির্দেশ দেন যে, গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল জায়গাগুলিতে নজরদারি আরও বাড়াতে হবে এবং কৌশলগতভাবে বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।
কাটরা থেকে ভবন পর্যন্ত পুরো পথে নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েন ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করা হয়, যাতে তীর্থযাত্রীরা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন।
এছাড়াও হোটেল, লজ, গেস্ট হাউস, হোম-স্টে এবং অন্যান্য থাকার জায়গাগুলিতে নিয়মিত তল্লাশি ও যাচাই করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ডিআইজি শর্মা বলেন, যে কোনও রকম চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে নিখুঁত সমন্বয়, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
বৈঠকের শেষে, সমস্ত অংশগ্রহণকারী সংস্থা শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী মন্দিরে আসা তীর্থযাত্রীদের জন্য একটি সুরক্ষিত, শান্তিপূর্ণ এবং ভক্ত-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সম্মিলিতভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়।