
পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬-এ ভারতের বড় শহরগুলোতে প্রায় একই রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে ওঠানামা চললেও, সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর এটাই যে দেশের বাজারে দাম বাড়েনি। দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, কলকাতা সহ অন্যান্য শহরের গ্রাহকরা তেল ভরার আগে আজকের জ্বালানির রেট চেক করে নিতে পারেন।
পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর কেন্দ্রের রফতানি শুল্কের কাঠামোতে সম্প্রতি কিছু পরিবর্তন এসেছে। অর্থ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সরকার ৩১ অক্টোবর থেকে পেট্রোলের ওপর অতিরিক্ত রফতানি শুল্ক কমিয়ে প্রতি লিটারে শূন্য করে দিয়েছে। আগে এই শুল্ক ছিল লিটার প্রতি ২.৫০ টাকা।
অন্যদিকে, সরকার ডিজেলের ওপর রফতানি শুল্ক লিটার প্রতি ৮.৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১.৫০ টাকা করেছে। এই সব পরিবর্তনের পরেও, ভারতের প্রধান শহরগুলোতে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো দামে বিশেষ কোনো হেরফের হয়নি।
ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স (ভ্যাট), পরিবহণ খরচ এবং অন্যান্য স্থানীয় বিষয়ের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন রাজ্য ও শহরে জ্বালানির দাম আলাদা হয়। পেট্রোল পাম্পে গ্রাহকদের কত টাকা দিতে হবে, তা ঠিক করার ক্ষেত্রে রাজ্যের নিজস্ব কর একটা বড় ভূমিকা পালন করে।
এদিকে, টানা দু'দিন কমার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে আবার ওঠানামা দেখা গেছে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার দিকে ব্যবসায়ীরা কড়া নজর রাখছেন।
ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুড প্রায় ৫ ডলারের রেঞ্জের মধ্যে ঘোরাফেরা করার পর ব্যারেল প্রতি ৯৭ ডলারের কাছাকাছি ট্রেড করছে। অন্যদিকে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৪ ডলারের নিচে বন্ধ হয়েছে।
ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, এক কূটনীতিক জানিয়েছেন যে ইরান এবং আমেরিকা নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ মেটাতে মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া নতুন প্রস্তাবগুলো খতিয়ে দেখছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানও ওয়াশিংটনের জবাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এক্স (X) হ্যান্ডেলে করা একটি পোস্টে তিনি জানিয়েছেন যে আমেরিকার এই জবাব এখনও পর্যন্ত "সন্তোষজনক নয়"।
হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর ওপর তেহরান হামলা বাড়িয়েছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সতর্ক করে বলেছেন যে মিডটার্ম নির্বাচনের পর নতুন করে হামলা হতে পারে।
গত নয় মাস ধরে চলা এই সংঘাতের জেরে পারস্য উপসাগর থেকে তেলের জোগান ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং এই বছর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭০%-এরও বেশি বেড়ে গেছে।