
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার লালকেল্লার চূড়া থেকে ঘোষণা করেছেন যে, ভারত এই দশকেই পাঁচটি নতুন পারমাণবিক চুল্লি চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। তাঁর মতে, আধুনিক যুগে দেশের শক্তি সুরক্ষা অত্যন্ত জরুরি। ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "শক্তি সুরক্ষা এখন সময়ের দাবি। সংসদে শান্তি আইন (SHANTI Act) পাস করে আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণের কাঠামো তৈরি করেছি। আমাদের লক্ষ্য ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জন করা। এই দশকে আমরা পাঁচটি নতুন পারমাণবিক চুল্লি চালু করতে চাই।"
সম্প্রতি যুদ্ধের কারণে জ্বালানি নিয়ে বারবার সমস্যায় পড়তে হয়েছে ভারতে। সেই সমস্যা থেকে পুরোপুরি নিস্তার পেতেই শক্তিতে আত্মনির্ভরতার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, ভারতকে অন্য দেশের উপর নির্ভরশীল হলে চলবে না। আমাদের আত্মনির্ভর হতে হবে। নিজেদের ক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। সেই কারণেই 'আত্মনির্ভর ভারত'-এর সংকল্প নিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি। প্রত্যেক ভারতীয় 'মেক-ইন-ইন্ডিয়া', 'স্বদেশী' এবং 'ভোকাল ফর লোকাল' আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত।"
প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, ১৯২৫ সালে ভারতে রেলের বিদ্যুতায়ন শুরু হওয়ার পর প্রায় ৯০ বছরে মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ হয়েছিল। কিন্তু গত এক দশকে ভারত ১০০ শতাংশ রেল বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন করেছে। তিনি বলেন, "এর ফলে একদিকে যেমন আমদানি করা ডিজেলের উপর নির্ভরতা কমেছে, তেমনই পরিবেশও দূষণমুক্ত রাখতে সাহায্য করেছে। ভারত তার প্রথম হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন চালু করে আরও একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে।"
শক্তি সুরক্ষার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন ক্ষেত্রে ভারতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০১৪ সালের পর থেকে গ্রামীণ শিল্প প্রায় পাঁচগুণ বেড়েছে, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা চারগুণ হয়েছে এবং ডিজিটাল লেনদেন একশো গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মোদী বলেন, "গত ১২ বছরে প্রতিরক্ষা উৎপাদন প্রায় চারগুণ বেড়েছে, খাদি ও গ্রামীণ শিল্পের উৎপাদন প্রায় পাঁচগুণ বেড়েছে। ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন বেড়েছে প্রায় সাতগুণ। আধুনিক রেল কোচের উৎপাদন ২১ গুণ এবং মোবাইল ফোন উৎপাদন ৩৩ গুণ বেড়েছে। এর বাইরেও আমরা ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের জগতে নিজেদের ছাপ রেখেছি। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় চারগুণ, পেটেন্ট মঞ্জুরির সংখ্যা চারগুণ এবং ডিজিটাল লেনদেন একশো গুণ বেড়েছে।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার সাধারণ মানুষের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কাজ করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশে "প্রশাসনের ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন" এসেছে। আগের চেয়ে ছয়গুণ বেশি গতিতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে এবং দুঃস্থদের জন্য আবাসন তৈরির কাজ আগের চেয়ে তিনগুণ দ্রুত হারে হয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা সাধারণ মানুষের সুবিধা বাড়ানোর জন্য সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছি। আমরা আগের চেয়ে ১৫ গুণ বেশি গতিতে ঘরে ঘরে জলের সংযোগ দিয়েছি। আগের চেয়ে ছয়গুণ দ্রুত গতিতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আমরা গরিবদের জন্য শৌচাগার তৈরির কাজ চারগুণ দ্রুত করেছি এবং দুঃস্থদের জন্য আবাসন তৈরির কাজ তিনগুণ দ্রুত হারে করেছি। দেশে প্রশাসনের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন এসেছে; হাজার হাজার নিয়মকানুন বাতিল করা হয়েছে এবং শত শত পুরনো আইন তুলে দেওয়া হয়েছে।"