
দেশের সীমান্ত সুরক্ষার বদলে দেশের ভেতরে প্রতিবাদ দমনেই বেশি ব্যস্ত কেন্দ্রীয় সরকার। আর এর ফলে জাতীয় নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে। শুক্রবার ঠিক এই ভাষাতেই কেন্দ্রকে কড়া আক্রমণ করলেন ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র কর্মী অভিজিৎ দিপকে।
অভিজিৎ দিপকের মতে, দেশের নাগরিকদের আটকাতে দিল্লিকে যেভাবে 'দুর্গ' বানানো হয়েছে, তাতে জাতীয় নিরাপত্তাই দুর্বল হচ্ছে। শুক্রবার সকালেই কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তিনি অভিযোগ করেন, চিনকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে কেন্দ্র। অরুণাচল প্রদেশে ভারত পেট্রোলিং পয়েন্ট হারালেও সীমান্ত উত্তেজনা নিয়ে সরকার একেবারে চুপ।
এক্স (X) হ্যান্ডেলে দিপকে লেখেন, "হ্যাঁ, কারণ যে বাহিনীর আমাদের সীমান্ত পাহারা দেওয়ার কথা, তাদের দেশের নাগরিকদের প্রতিবাদ আটকাতে কাজে লাগানো হচ্ছে। নিজের দেশের মানুষের বিরুদ্ধেই নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করে মোদী আসলে জাতীয় নিরাপত্তাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলছেন।"
হ্যাঁ, কারণ যে বাহিনীর আমাদের সীমান্ত পাহারা দেওয়ার কথা, তাদের দেশের নাগরিকদের প্রতিবাদ আটকাতে কাজে লাগানো হচ্ছে। নিজের দেশের মানুষের বিরুদ্ধেই নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করে মোদী আসলে জাতীয় নিরাপত্তাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলছেন। আমাদের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সীমান্ত সুরক্ষিত করা, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনের জন্য দিল্লিকে দুর্গ বানানো নয়।
ওই পোস্টে তিনি আরও লেখেন, "আমাদের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সীমান্ত সুরক্ষিত করা, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনের জন্য দিল্লিকে দুর্গ বানানো নয়।"
অন্যদিকে, চিনের প্রতি ভারতের নরম মনোভাব নিয়ে সরব হয়েছেন শিবসেনা (ইউবিটি) নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং বিদেশমন্ত্রীর কাছে এই বিষয়ে জবাব চেয়েছেন তিনি।
প্রিয়াঙ্কার দাবি, জাতীয় নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে মন্ত্রীদের দায়বদ্ধ থাকা উচিত।
এএনআই-কে প্রিয়াঙ্কা বলেন, "এর উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং বিদেশমন্ত্রীর। একদিকে আমরা চিনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কথা বলছি, যেন সব ঠিক আছে। অথচ অন্যদিকে, বারবার এই ধরনের ঘটনা সামনে আসছে।"
"যেহেতু এটা দেশের নিরাপত্তা আর জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন, তাই দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে," বলেন প্রিয়াঙ্কা।
কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ জানান, অরুণাচল প্রদেশে চিনা সেনার (PLA) সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় আইটিবিপি (ITBP) জওয়ানদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন বাহিনীর ডিজি। অথচ এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সরকার একেবারে চুপ।
এক্স-এ রমেশ লেখেন, "স্বঘোষিত বিশ্বগুরু যখন চিনকে মেপে মেপে সুবিধা দিচ্ছেন, তখন আইটিবিপি-র ডিজি অরুণাচল প্রদেশে পিএলএ-র সঙ্গে সংঘাতে বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। আর এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সরকার একেবারে নীরব।"