
Travel and Tourism: জুন থেকে অগাস্ট জঙ্গল মানে নো এন্ট্রি। বন দফতর গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়। কারণটা সোজা। বর্ষায় এটা জন্তুদের বাচ্চা দেওয়ার সময়। রাস্তা ভেঙে যায়, সাপ-জোঁকের উৎপাত বাড়ে। কিন্তু সেপ্টেম্বর ফুরালেই গেট খুলে যায়। আর তখন যে জঙ্গল দেখবেন, সেটা আর ৫ মাস পর থাকবে না। ধুলো উড়বে না, গাছের গুঁড়ি বেয়ে জল পড়বে, মাটিতে ভেজা পাতার গন্ধ মিশবে, দূরে ময়ূর ডাকবে। ঝরনাগুলো তখন ফুল স্পিডে। এই সময়টায় ক্যামেরা নিয়ে বেরোলে মেমরি কার্ড ভরে যাবেই। চলুন দেখি কোন ৭টা জঙ্গল বর্ষার পর না গেলেই নয়।
সাতপুরা মানেই অন্যরকম অ্যাডভেঞ্চার। বর্ষায় ধুয়ে এখানকার পাহাড়-জঙ্গল হয়ে ওঠে সবুজ গালিচা। ভারতে একমাত্র এখানেই জিপ ছাড়া পায়ে হেঁটে জঙ্গল দেখার পারমিশন মেলে। ধূপগড় পাহাড়ের উপর থেকে সূর্যাস্ত দেখলে মনে হবে গোটা জঙ্গল সোনা গলিয়ে দিয়েছে। পান্ডব গুহা, বি ফলসে তখন জল উপচে পড়ে। লেপার্ড, স্লথ বিয়ার, জায়ান্ট স্কুইরেলের সাথে দেখা হয়ে যেতে পারে হাঁটতে হাঁটতেই। অক্টোবর ১ থেকে জুন পর্যন্ত খোলা, তবে অক্টোবর-নভেম্বর বেস্ট কারণ ঝরনা ভরা থাকে আর সবুজ একদম ফ্রেশ। ভোপাল থেকে ১৯০ কিমি গেলে মাধাই গেট। বোট সাফারিটা মিস করবেন না, ডেনওয়া নদীতে কুমির রোদ পোহায়।
দক্ষিণের চেরাপুঞ্জি বলে অগুম্বেকে। বছরে ৭০০০ মিমি বৃষ্টি হয় এখানে। সেপ্টেম্বরে বৃষ্টি কমলে গোটা জঙ্গল মেঘের চাদরে ঢেকে যায়। এটা কিং কোবরার রাজধানী, তাই রেসকিউ সেন্টারটা দেখতেই হবে। বারকানা ফলস তখন গর্জন করে নামে, ভারতের দশম উঁচু ঝরনা এটা। সানসেট পয়েন্ট থেকে আরব সাগরে সূর্য ডোবা দেখলে গায়ে কাঁটা দেবে। রাতে জোঁনাকি জ্বললে মনে হবে আকাশের তারা মাটিতে নেমে এসেছে। সেপ্টেম্বর শেষ থেকে ডিসেম্বর বেস্ট টাইম। ম্যাঙ্গালোর থেকে ১০০ কিমি দূরে। জোঁকের তেল আর হোমস্টে মাস্ট, কারণ রাতের জঙ্গল সাফারি এখানকার স্পেশাল।
পশ্চিমঘাটের কোলে ৪০টা হেয়ারপিন বেন্ড পেরিয়ে পৌঁছাতে হয় ভালপারাই। বর্ষার পর চা বাগানের উপর মেঘ ভেসে বেড়ায়, রাস্তাটাই ডেস্টিনেশন হয়ে যায়। এখানে জঙ্গল আর চা বাগান মিলেমিশে আছে। লায়ন-টেইলড ম্যাকাক, নীলগিরি তাহর, চিতা, হাতির অবাধ বিচরণ। আলিয়ার ড্যাম, মাঙ্কি ফলস, লোয়াম ভিউ পয়েন্ট—প্রত্যেকটা স্পট ছবির মতো। সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি খোলা, তবে অক্টোবরে চা বাগান সবচেয়ে সবুজ থাকে। কোয়েম্বাটুর থেকে ১০০ কিমি, পোল্লাচি হয়ে যেতে হয়। হোটেল কম তাই আগে বুক করে যান, আর নিজের গাড়ি না থাকলে লোকাল জিপ ভাড়া নিন।
ডান্ডেলি মানে শুধু জঙ্গল না, সঙ্গে ফুল অন অ্যাডভেঞ্চার। কালী নদীতে রিভার রাফটিং হয় এখানে। বর্ষার পর নদী জলে ভরা থাকে কিন্তু স্রোত সেফ লেভেলে নামে। জঙ্গলে ব্ল্যাক প্যান্থার দেখার রেকর্ড আছে, যদিও ভাগ্য লাগে। হর্নবিল পাখি, বাইসন, হাতি রেগুলার দেখা যায়। সিন্থেরি রকস, কাভালা গুহার গা ছমছমে অন্ধকার আর সুপা ড্যামের জল—সব মিলিয়ে কমপ্লিট প্যাকেজ। অক্টোবর থেকে মার্চ সিজন, নভেম্বরে রাফটিং সবচেয়ে ভালো হয়। হুবলি থেকে ৭৫ কিমি, গোয়া থেকেও ১২৫ কিমি। জঙ্গল লজে থাকলে সাফারি ফ্রি পাবেন, আর নাইট সাফারিটা একবার ট্রাই করুন।
বাঘ দেখতে চান? তাডোবা চলে যান। ভারতে বাঘ সাইটিং-এর চান্স এখানেই সবচেয়ে বেশি। বর্ষার পর ঘাস ছোট হয়ে যায়, আর জন্তুরা জল খেতে লেকের ধারে আসে। মায়া, মটকাসুর, ছোটি তারা—এই ফেমাস বাঘগুলোর টেরিটরি এটা। বাইসন, সম্বর তো আছেই। তাডোবা লেকের ধারে সানসেট দেখার মতো শান্তি কম জিনিসে আছে। অক্টোবর ১ থেকে জুন খোলা থাকে। অক্টোবর-নভেম্বরে ভিড় কম থাকে কিন্তু বাঘ দেখার চান্স বেশি। নাগপুর থেকে ১৪০ কিমি দূরে। মোহারলি গেট দিয়ে ঢুকলে সাইটিং ভালো হয়। ১২০ দিন আগে অনলাইন বুকিং খোলে, দেরি করলে স্লট পাবেন না।
নামেই সাইলেন্ট ভ্যালি। এত ঘন জঙ্গল যে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ছাড়া আর শব্দ নেই। মানুষের পা এখানে কম পড়ে, ভিতরে কোনো গ্রামও নেই। লায়ন-টেইলড ম্যাকাকের সবচেয়ে বড় দলটা এখানেই থাকে। সঙ্গে নীলগিরি লাঙ্গুর, গ্রেট ইন্ডিয়ান হর্নবিল দেখবেন। কুন্তী নদী বয়ে গেছে জঙ্গলের বুক চিরে। দিনে মাত্র ৭৫ জনকে ঢুকতে দেয়, তাই আগে থেকে পারমিট নিতে হয়। মুক্কালি থেকে জিপে করে ঢুকতে হয়, তারপর ট্রেক। সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ খোলা, অক্টোবরে ঝরনা আর সবুজ দুটোই পিক ফর্মে থাকে। কোয়েম্বাটুর থেকে ৯০ কিমি দূরে।
নামদাফাকে বলে ভারতের অ্যামাজন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২০০ মিটার থেকে ৪৫০০ মিটার পর্যন্ত উঠেছে এই জঙ্গল। ভারতের একমাত্র পার্ক যেখানে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিতা, ক্লাউডেড লেপার্ড আর স্নো লেপার্ড—চারটেই আছে। হুলক গিবন, লাল পান্ডা, ৪২৫ প্রজাতির পাখি আর নোয়া-দিহিং নদী নিয়ে স্বপ্নের জায়গা। ট্রাইবাল গ্রাম ঘুরে দেখতে পারবেন। অক্টোবর থেকে এপ্রিল সিজন। নভেম্বরে আকাশ পরিষ্কার থাকে, পাহাড় দেখা যায়। ডিব্রুগড় থেকে ২০০ কিমি দূরে মিয়াও গেট। ILP লাগবে আর গাইড ছাড়া ঢোকা যায় না। নেটওয়ার্ক নেই, তাই ক্যাম্প করে থাকার মানসিকতা নিয়ে যান।
বর্ষা মিটলেই ব্যাগ গুছিয়ে নিন। এসি ঘরের বদলে সবুজের গন্ধ, ঝরনার জল, বাঘের ডাক—এই ফিলিং শহরে পাবেন না। অক্টোবর-নভেম্বর মাসটা জঙ্গলের জন্য সোনার সময়। সাফারির বুকিং ১২০ দিন আগে খোলে, তাই দেরি করবেন না। জঙ্গলে গিয়ে নিয়ম মানুন। চেঁচাবেন না, প্লাস্টিক ফেলবেন না, জন্তুদের খাবার দেবেন না। মনে রাখবেন, জঙ্গলটা ওদের বাড়ি, আমরা গেস্ট।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।