
উৎসবের মরসুমের আগেই চিনির দাম বাড়তে থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী রবিবার জানালেন, চিনির জোগান স্বাভাবিক রাখতে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মধ্যে সাময়িকভাবে কাঁচা চিনি আমদানির কথাও ভাবা হচ্ছে।
যোশী জানান, আখের 'রেড রট' বা লাল পচা রোগ এবং এল নিনোর প্রভাবে শুধু ভারতে নয়, বিশ্বজুড়েই চাষের ক্ষতি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে চিনির উৎপাদনে। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় যোশী বলেন, "একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবে রেড রট রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। তার উপর এল নিনোর প্রভাব তো আছেই। সব মিলিয়ে শুধু চিনি নয়, সব ধরনের কৃষি উৎপাদনই কমেছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে খুবই চিন্তিত। তাই দ্রুত বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভারতে বছরে প্রায় ২৮০ লক্ষ টন চিনির প্রয়োজন হয়। আজ পর্যন্ত আমাদের হাতে ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টনের বেশি চিনি উদ্বৃত্ত রয়েছে।"
প্রহ্লাদ যোশী আরও যোগ করেন, "সামনেই উৎসবের মরসুম, বড় বড় অনেক পরব রয়েছে। তাই আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাময়িক পদক্ষেপ হিসেবে কাঁচা চিনি আমদানির কথাও ভাবা হয়েছে।"
উল্লেখ্য, সম্প্রতি খুচরো বাজারে চিনির দাম বেড়েছে। উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০ জুলাই প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ৪৮.১৮ টাকা, যা ২০ আগস্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৫৫.৭০ টাকায়। একাধিক কারণেই এই দাম বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক এবং সাংসদ রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা অভিযোগ করেছেন যে, চাষিরা আখ বিক্রি করে ঠিক সময়ে দাম পাচ্ছেন না।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী আরও অভিযোগ করেন, যে ভারত আগে চিনি রপ্তানি করত, সেই দেশ এখন প্রথমবার চিনি আমদানি করছে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "...দেশে একটি সুগার কন্ট্রোল অর্ডার আছে, আর আমরাই চিনির দাম ঠিক করি... চাষিরা যে আখ বিক্রি করছেন, তার দাম যদি এক বছর ধরে না মেটানো হয়, তাহলে তাঁরা কেন চাষ করবেন? আমরা চিনি রপ্তানি করতাম, আর এখন প্রথমবার চিনি আমদানি করা হচ্ছে।"