
Prashant Kishor: জল্পনাটা যে এভাবে সত্যি হয়ে যাবে তা অনেকই ভাবেননি। কিন্তু বিহারের বাঙ্কিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে জনসূরজ পার্টি (Jan Suraaj Party)-র প্রার্থী ঘোষণায় তেমনটাই হল। গত বছর বিহার বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় সব আসনে তার দল প্রার্থী দিলেও, নিজে ভোটে দাঁড়াননি দেশের জনপ্রিয় ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর। তবে এ বার উপনির্বাচনে নিজের দল জনসূরজ পার্টির প্রার্থী হলেন পিকে। খোদ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের ঘাঁটিতে জীবনে প্রথমবার ভোটে লড়বেন প্রশান্ত। রবিবার দলের কর্মসমিতির বৈঠকের পর প্রশান্ত কিশোরের নাম আসন্ন বাঙ্কিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করল JSP। নিজের দল খোলা প্রায় বছর দুয়েক পর ভোটের ময়দানে সরাসরি নামলেন তিনি।
বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন রাজ্যসভায় সাংসদ নির্বাচিত হওয়ায় বাঙ্কিপুর বিধানসভা থেকে পদত্যাগ করেন। শূণ্যপদ পূরণ করতে তাই পটনা জেলার এই বিধানসভা আসনে আগামী ৩০ জুলাই উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে। গত চারটি বিধানসভা ভোটে এই বাঙ্কিপুর থেকে অনায়াসে জেতেন নীতীন নবীন। প্রশান্ত কিশোরের মত ব্যক্তিত্ব সরাসরি প্রার্থী হওয়ায় বাঙ্কিপুর উপনির্বাচন নিয়ে গোটা দেশের আগ্রহ বাড়ল। এই আসনে গত বছর হওয়া নির্বাচনে জনসূরয দলের প্রার্থী বন্দনা কুমারী মাত্র ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। সেখানে বিজেপির নীতীন নবীন প্রায় ৬৩ শতাংশ ভোট পেয়ে নিকটতম আরজেডি-র প্রার্থীকে হারান প্রায় ৫২ হাজার ভোটের ব্যবধানে।
নীতীন নবীনের পরিবর্তে এ বার বাঙ্কিপুরে বিজেপির হয়ে লড়ছেন নীল রতন ঘোষ। দীর্ঘদিন ধরেই এই আসনকে নীতীনের সৌজন্যে বিজেপির গড় হিসেবে ধরা হয়। বিজেপির গড়ে সরাসরি প্রার্থী হয়ে পিকে বড় বার্তা দিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ গত বছর বিধানসভা ভোটে ধরাশায়ী হওয়ার পর থেকে লালু-তেজস্বীদের অবস্থা একেবারে খারাপ। রাজ্যে কংগ্রেসও কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। এমন অবস্থায় রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে একটা বড় শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে। নীতীশ কুমার সরে দাঁড়ানোর পর, বিজেপির সম্রাট চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পিকে একের পর এক তোপ দেগে বিরোধী তোপ দেগে পছন্দের পাত্র হয়ে উঠছেন। অন্যদিকে, ভোটে হারের পর থেকে আরজেডি-র তেজস্বী যাদব ক্রমশ পিছনের সারিতে চলে গিয়েছেন। এমন অবস্থায় বিরোধীদের মুখ হয়ে উঠতে পিকে গা ঝারা দিয়ে উঠে ভোটে দাঁড়ালেন বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর, গান্ধী জয়ন্তীর দিন জনসূরজ পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন প্রশান্ত কিশোর। বিহার-কেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে যাত্রা শুরু করে জনসূরজ।গত বছর অক্টোবরে হওয়া বিহার বিধানসভা নির্বাচনে ২৪৩টি-র মধ্যে ২৩৮টি আসনে লড়ে পিকের জনসূরজ পার্টি। মিডিয়ায় অনেক আলোচনা, বড়মাপের প্রচারের পরেও ২৩৬টি আসনেই পিকের দলের প্রার্থীদের জামানত জব্দ হয়েছিল। কোনও আসনেই জেতার মত জায়গাতেই ছিল না তার দল। এমনকি ৩৬টি আসনে জনসূরয পার্টির প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট নোটার (NOTA) চেয়েও কম ছিল। বিজেপি বিরোধী হলেও কংগ্রেস-আরজেডি-বামেদের গড়া মহাগঠবন্ধনে অংশ না নিয়ে একাই লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পিকে। তবে গত বছর বিধানসভা নির্বাচনে সরাসরি প্রার্থী হননি পিকে। বিহার সহ গোটা দেশে বিরোধীদের ধরাশায়ী অবস্থার মাঝে এবার আর পর্দার পিছন থেকে লড়াই না করে, সরাসরি ভোটের ময়দানে নামলেন ভোটকৌশলী।