
Prashant Kishor: অনেক বড় নেতাদের ভোটে জিতিয়েছেন। কিন্তু নিজে ভোটে লড়ে পুরো শূন্য পেয়েছেন। সেই প্রশান্ত কিশোর আবার হয়তো ভোটের ময়দানে। বিহারের রাজনীতিতে নতুন করে জোর চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বাঙ্কিপুর (Bankipur) বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন রাজ্যসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরেই খালি হয়েছে এই আসন। আর সেই শূন্যস্থান ঘিরেই এখন রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে উত্তেজনা। বিশেষ করে, জনসূরয পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোর এই আসন থেকে ভোটে লড়তে পারেন বলে জল্পনা তুঙ্গে। তামিলনাড়ুতে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের ঐতিহাসিক জয়ের পিছনে ভোট কৌশলী পিকে-র বড় ভূমিকা ছিল। বিজয়কে মহাসাফল্য এনে দিয়ে প্রশান্ত এবার নিজে ভোটে লড়তে চাইছেন। অন্তত সূত্রের খবর এমনই।
সূত্রের খবর, নিজের দল জন সূরয-এর প্রার্থী হিসেবেই বাঙ্কিপুর উপনির্বাচনে নামতে পারেন প্রশান্ত কিশোর। যদিও এখনও পর্যন্ত তাঁর বা দলের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবুও ঘনিষ্ঠ মহলের ইঙ্গিত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক অন্দরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বাকিপুরা দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি-র শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থীরা অতীতে তুলনামূলকভাবে সহজেই জয় পেয়েছেন। ফলে যদি সত্যিই প্রশান্ত কিশোর এখানে প্রার্থী হন, তবে তা সরাসরি বিজেপির দুর্গে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার সামিল হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
গত বছর বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বাঙ্গিপুর আসনে ৬২ শতাংশ ভোট পেয়ে জিতেছিলেন বিজেপির নীতীন নবীন। সেখানে পিকে-র দলের প্রার্থী ৫ শতাংশ ভোট পান। ২০১০ থেকে এই আসনে জিতে আসছেন বিজেপির বর্তমান সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিহারে কার্যত বিরোধী শূন্য ময়দানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতেই সরাসরি ভোটে লড়তে চাইছেন তিনি। বড় হারের পর তেজস্বী যাদব বিহারে এখন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছেন। কংগ্রেস, বামেদের হালও বিহারে খুব খারাপ। এমন একটা সময় পিকে নিজেকে বিজেপি বিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, প্রশান্ত কিশোর যদি এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে সেটি হবে অত্যন্ত সাহসী রাজনৈতিক পদক্ষেপ। কারণ, রাজনৈতিক কৌশলবিদ হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা থাকলেও, তা ভোটে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। পাশাপাশি, বিজেপি অধ্যুষিত এলাকায় জন সুরাজ কতটা সংগঠন গড়ে তুলতে পেরেছে, সেই পরীক্ষাও হয়ে যাবে এই ভোটে।
প্রসঙ্গত, গত বছর বিহার বিধানসভা নির্বাচনে প্রশান্ত কিশোর নিজে কোনো আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। তিনি নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত 'জন সুরয পার্টি' রাজ্যের মোট ২৪৩টি আসনের মধ্যে ২৩৮টিতে প্রার্থী দেয়। কোনও আসন জেতা তো দূরে থাক ২৩৮টি-র মধ্য়ে পিকে-র দলের ২৩৬ জনের জামানত জব্দ হয়।