
ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই কথোপকথন চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী মোদী পবিত্র ইদ এবং ইরানের নববর্ষ 'নওরোজ' উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। দুই নেতা কেবল উৎসবের আনন্দই ভাগ করে নেননি, বরং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বেশ কিছু জরুরি নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী আশা প্রকাশ করেন যে, এই উৎসবের মরশুম সমগ্র পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তাঁর এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে উল্লেখ করেন যে, আঞ্চলিক শান্তিই হল বিশ্ব উন্নয়নের প্রকৃত পথ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US) ও ইজরায়েলের সঙ্গে তেহরানের চলমান সংঘাতের জেরে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বর্তমানে তুঙ্গে রয়েছে। গত প্রায় আট দিনের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী মোদী পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনা করলেন।
অবকাঠামোতে হামলার তীব্র নিন্দা
কথোপকথন চলাকালীন, প্রধানমন্ত্রী মোদী পশ্চিম এশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি মনে করেন যে, এ ধরনের হামলা কেবল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই হুমকির মুখে ফেলে না, বরং বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থাকেও মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ উত্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী মোদী সমুদ্রপথে চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথগুলো যেন উন্মুক্ত ও সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে—যাতে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে—তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী ইরানে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে যে ধারাবাহিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। ভারতীয়দের স্বার্থরক্ষায় ইরানের অব্যাহত সদিচ্ছা ও অঙ্গীকারের জন্য তিনি রাষ্ট্রপতি পেজেশকিয়ানকে ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর যোগাযোগ প্রচেষ্টা
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী উপসাগরীয় অঞ্চল এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছেন। গত শুক্রবার তিনি বাহরাইনের বাদশাহ হামাদ বিন ঈসা আল খলিফার সঙ্গে আলোচনা করেন এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। এর আগে তিনি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, জর্ডনের বাদশা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গেও কথা বলেছিলেন।
ভারত বারবার এই কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত অবশ্যই সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে। একই সঙ্গে সংঘাতের সব পক্ষের প্রতি সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। ভারত আরও বলেছে যে, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অবাধ নৌচলাচলের সুবিধার্থে 'হরমুজ প্রণালী' (Strait of Hormuz) অবশ্যই উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখা উচিত।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, ইরানের ওপর হামলার তীব্রতা সম্ভবত আরও বৃদ্ধি পাবে। কারণ তারা দীর্ঘদিন ধরেই এই 'ইসলামী প্রজাতন্ত্রে'র শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের (regime change) দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে, ইরান তাদের অবস্থানে অটল রয়েছে। দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন যে, তেহরান তাদের শত্রুদের কাছে কখনই নতি স্বীকার করবে না এবং এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের লক্ষ্যবস্তুগুলোর ওপর পাল্টা আঘাত হানার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।