
Lucky Oberoi Killing CCTV Video: পঞ্জবের জলন্ধরে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। আম আদমি পার্টি শাসিত পঞ্জাবে খুন হলেন অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলের দাপুটে নেতা। প্রকাশ্য দিবালোকে আম আদমি পার্টির (AAP) নেতা লাকি ওবেরয়কে গুলি করে খুনের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পঞ্জাবে। শুক্রবার সকালে গুরুদ্বারের বাইরে এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো হামলার দৃশ্য ধরা পড়েছে। ফুটেজে দেখা গিয়েছে, কালো হুডি পরা এক বন্দুকধারী গাড়ির কাছে এসে গুলি চালাচ্ছে এবং অপর এক দুষ্কৃতী স্কুটার নিয়ে অপেক্ষা করছে। হামলার পর দু'জনই দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
নিহত নেতার আসল নাম সতবিন্দর পাল সিং। তিনি লাকি ওবেরয় নামেই পরিচিত ছিলেন। বয়স ৩৮ বছর। জালন্ধরভিত্তিক এই আপ নেতা স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং সম্পত্তি ও ফিনান্স ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এক পরিচিত মুখ বলে জানা যাচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার সকালে নিয়মিত রুটিন মেনে তিনি মডেল টাউন এলাকার গুরুদ্বার সিং সভায় প্রার্থনা করতে গিয়েছিলেন। প্রার্থনা শেষে তিনি নিজের কালো রঙের মাহিন্দ্রা থার গাড়িতে বসে সেখান থেকে বেরোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় স্কুটারে করে আসা দুই অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রের দাবি, মোট ৮ থেকে ১০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। তার মধ্যে একাধিক গুলি লাকি ওবেরয়ের বুক ও মাথায় লাগে।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় লাকি ওবেরয়কে সকাল প্রায় ৮টা নাগাদ জালন্ধরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে, শ্রী রাম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তৎক্ষণাৎ সিপিআর দেন এবং ভেন্টিলেশনে রাখেন। তবে একাধিক গুলির আঘাতের কারণে কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। জলন্ধরের পুলিশ কমিশনার ধনপ্রীত কৌর রন্ধাওয়া লাকি ওবেরয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। অভিযুক্তদের ধরতে ইতিমধ্যেই তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। আপ নেতার হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শোরগোল পড়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে একজন রাজনৈতিক নেতাকে গুলি করে খুনের ঘটনায় বিরোধী দলগুলি ভগবন্ত সিং মানের নেতৃত্বাধীন পাঞ্জাব সরকারের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার অভিযোগ তুলেছে।