
কংগ্রেস নেতা এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সংসদে তাঁর দেওয়া জুজুৎসু উপমার ব্যাখ্যা দিলেন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এমন এক রাজনৈতিক 'ফাঁদে' এবং 'প্যাঁচে' আটকে গিয়েছেন, যা সাধারণ মানুষের চোখে পড়ছে না।
এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি ভিডিও পোস্ট করে রাহুল বলেন, "অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন, আমি সংসদে জুজুৎসুর মতো একটি খেলার তুলনা কেন টেনেছি। আসলে জুজুৎসুতে প্রতিপক্ষকে কাবু করার জন্য বিভিন্ন ধরনের 'গ্রিপ' (পাকড়) বা 'চোক' (গলা চেপে ধরা) ব্যবহার করা হয়।" তিনি আরও যোগ করেন যে, রাজনীতিতেও এই একই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, কিন্তু সেগুলো সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে থাকে।
কংগ্রেস সাংসদের কথায়, "রাজনৈতিক প্যাঁচগুলো বেশিরভাগ সময়েই গোপন থাকে। সাধারণ মানুষ তা দেখতে পায় না। কোথায় চাপ দেওয়া হচ্ছে, তা বুঝতে গেলে খুব ভালোভাবে লক্ষ্য করতে হয়।" রাহুলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একাধিক চাপের মধ্যে "আটকে" গিয়েছেন। একদিকে আমেরিকায় আদানি মামলা এবং এপস্টাইন প্রসঙ্গ, অন্যদিকে সীমান্তে চীনের চাপ। তিনি দাবি করেন, এই সব মামলায় বেশ কিছু ভারতীয়র নাম জড়িয়ে আছে, কিন্তু সেই ফাইলগুলো প্রকাশ করা হয়নি। রাহুল বলেন, "একদিকে সীমান্তে চিন বসে আছে, অন্যদিকে আমেরিকা। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এই দুই চাপের মধ্যে আটকে পড়েছেন। উনি ফাঁদে পড়েছেন।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি আর্থিক মদতে টিকে আছে এবং সেই ভাবমূর্তির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ভারতের বাইরে। রাহুলের দাবি, এমন কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে যা দেশের কৃষক এবং বস্ত্রশিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আমেরিকার থেকে আমদানি বাড়াতে ভারতকে বাধ্য করা হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ডেটা গভর্নেন্স নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাহুল। তিনি বলেন, "সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ডেটা। নরেন্দ্র মোদী সামান্য কিছুর বিনিময়ে আমাদের দেশের ডেটা আমেরিকার সংস্থাগুলোর হাতে তুলে দিচ্ছেন। আমার কথা মিলিয়ে নেবেন, আমরা একটা ডেটা কলোনিতে পরিণত হতে চলেছি।" আমেরিকার সঙ্গে ডেটা, কৃষি এবং শিল্পের মতো বিষয়ে ভারত কেন আপস করছে, সেই প্রশ্ন তুলে রাহুল বলেন, এর উত্তর লুকিয়ে আছে প্রধানমন্ত্রীর উপর চাপানো ওই "প্যাঁচ" এবং "ফাঁদের" মধ্যেই।
এর আগে রাহুল গান্ধী এআই সামিটের আয়োজন নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, "ভারতের প্রতিভা এবং ডেটাকে কাজে লাগানোর পরিবর্তে, এই এআই সামিট একটি অসংগঠিত প্রচারমূলক অনুষ্ঠান মাত্র। এখানে ভারতীয় ডেটা বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে এবং চীনের পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে।"
এদিকে, আজ ভারত মণ্ডপমে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে 'শার্টলেস' প্রতিবাদ করে যুব কংগ্রেস কর্মীরা। এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের সমালোচনা করে তারা অভিযোগ করেন যে প্রধানমন্ত্রী "আপস" করেছেন। বিক্ষোভের সময় কর্মীরা জামা খুলে প্রতিবাদ জানান। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটক করে। যুব কংগ্রেসের একটি আনুষ্ঠানিক পোস্টে বলা হয়েছে, "যে প্রধানমন্ত্রী এআই সামিটে দেশের পরিচয় বিকিয়ে দিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে যুব কংগ্রেস কর্মীরা আওয়াজ তুলেছে।"