Rahul Gandhi: মোদীর বাড়ির সামনে রাহুলদের ধর্না, প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ আইনজীবীরা

Published : Jul 24, 2026, 03:16 PM IST
rahul Gandhi pm residence protest lawyers seek supreme court intervention

সংক্ষিপ্ত

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাড়ির সামনে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধীদের ধর্না নিয়ে এবার আসরে নামল আইনজীবীদের একাংশ। ২১ জুলাইয়ের এই ঘটনা নিয়ে প্রধান বিচারপতিকে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা।

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং অন্যান্য বিরোধী নেতাদের একটি বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এবার একদল আইনজীবী ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্তের দ্বারস্থ হলেন। ২১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ৭, লোক কল্যাণ মার্গের বাইরে এই বিক্ষোভ দেখানো হয়েছিল। আইনজীবীরা এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টকে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। .

শুধু তাই নয়, তাঁরা এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং উচ্চ-নিরাপত্তা জোনে (high-security zones) বিক্ষোভ দেখানোর জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশিকা তৈরিরও দাবি তুলেছেন। বিভিন্ন হাইকোর্ট এবং জেলা আদালতে কর্মরত আইনজীবীদের পক্ষ থেকে এই আবেদনটি জমা দিয়েছেন আইনজীবী সংকেত গুপ্তা।

আইনজীবীদের আবেদন

আবেদনে বলা হয়েছে, সংবিধানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার দেওয়া থাকলেও জনশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সেই অধিকারের উপর কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, উচ্চ-নিরাপত্তার মধ্যে থাকা সরকারি ভবনের কাছাকাছি বিক্ষোভ দেখানোর জন্য যেন একটি স্পষ্ট এবং অভিন্ন নির্দেশিকা তৈরি করা হয়।

আবেদন অনুযায়ী, NEET-UG পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ২১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে ধর্নায় বসেন রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, অখিলেশ যাদব এবং কেরল ও কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী-সহ বেশ কয়েকজন সাংসদ।

আইনজীবীদের দাবি, এই বিক্ষোভের জন্য আগে থেকে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে যাওয়ার রাস্তাও অবরোধ করা হয়েছিল।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, দিল্লি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বারবার বিক্ষোভকারীদের ওই জায়গা ছেড়ে চলে যেতে অনুরোধ করেন। তাঁরা জানান যে এলাকাটি একটি উচ্চ-নিরাপত্তা জোন।

আইনজীবীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর দফতরের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে বিক্ষোভ তুলে নেওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি আশ্বাস দেন যে সরকার সংসদে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। কিন্তু তারপরেও বিক্ষোভকারীরা ধর্না চালিয়ে যান।

আবেদনে রাহুল গান্ধীর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টও

রাহুল গান্ধীর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টেরও উল্লেখ করেছেন আইনজীবীরা, যেখানে তিনি সকলকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁদের মতে, এই ধরনের প্রকাশ্য আহ্বানের ফলে একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত ভিড় জমার আশঙ্কা ছিল, যা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

আবেদনপত্র অনুযায়ী, প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এই বিক্ষোভ চলে। এরপর পুলিশ রাহুল গান্ধী এবং অন্য নেতাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। আইনজীবীদের অভিযোগ, এই দীর্ঘ বিক্ষোভের কারণে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি হয়েছিল।

তাঁরা আরও যুক্তি দিয়েছেন, যদি এই ধরনের বিক্ষোভ কোনও রকম ব্যবস্থা ছাড়াই চলতে দেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা আরও বাড়বে এবং জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।

শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে মৌলিক অধিকার হিসেবে মেনে নিলেও আইনজীবীরা মনে করেন, নিরাপত্তার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাঁরা সাংবিধানিক বিভিন্ন ধারার উল্লেখ করে বলেছেন, সংবেদনশীল জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে।

আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই ঘটনায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS), ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ অ্যাক্ট, ১৯৮৮ (SPG Act) এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা প্রোটোকল লঙ্ঘন করা হয়েছে।

তবে মনে রাখতে হবে, এই সমস্ত অভিযোগ আইনজীবীদের পক্ষ থেকে করা হয়েছে এবং কোনও আদালত এখনও এগুলি খতিয়ে দেখেনি বা কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের কাছে ২১ জুলাইয়ের বিক্ষোভের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, তাঁরা একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং তদন্তের নির্দেশ এবং সারা দেশে উচ্চ-নিরাপত্তা অঞ্চলের কাছে বিক্ষোভ ও জনসমাবেশের জন্য বাধ্যতামূলক নির্দেশিকা তৈরির অনুরোধ করেছেন।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

August Holidays: পড়ুয়াদের জন্য দারুণ খবর! অগাস্টে মিলবে প্রায় ১২ দিনের ছুটি, রইল পুরো তালিকা
Riya Ahir: কে এই রিয়া আহির? মুম্বইয়ের পুলিশ ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে নজর কেড়েছেন গোটা দেশের