
সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) নাম এবং 'জোড়া ঘাসফুল' প্রতীক সাময়িকভাবে বাজেয়াপ্ত করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। শুক্রবার এই নির্দেশিকার পরেই ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) এবং নির্বাচন কমিশনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তাঁর মতে, ভারতে গণতন্ত্রের পতনের নতুন উদাহরণ হল এই 'দল চুরি'। এর আগে ভোট চুরি এবং সরকার চুরির ঘটনাও দেখেছে দেশ।
এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে রাহুল অভিযোগ করেন, বিরোধী শক্তিকে শেষ করতে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন একসঙ্গে কাজ করছে। তিনি লেখেন, “প্রথমে শিবসেনা, তারপর এনসিপি, আর এবার তৃণমূল কংগ্রেস। প্রতিবার একই ছক—একটি দলকে ভাঙতে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন হাত মেলায়। তারপর তাদের নির্বাচনী প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়। যখন আস্ত একটা দল চুরি হয়ে যেতে পারে, তখন কোটি কোটি ভারতীয়র ভোট চুরি হওয়াটা আশ্চর্যের কিছু নয়। ভোট চুরি। সরকার চুরি। আর এখন দল চুরি—এগুলোই আমাদের গণতন্ত্রের পতনের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
লোকসভার বিরোধী দলনেতা আরও অভিযোগ করেন, ভোটারদের অধিকার রক্ষার যে সাংবিধানিক দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের রয়েছে, তারা তা পালনে পুরোপুরি ব্যর্থ। উল্টে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দিতে তারা বিজেপিকে সাহায্য করছে। রাহুল বলেন, "জনগণের রায়কে রক্ষা করা ইসিআই-এর সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু তার বদলে, যারা মানুষের রায়কে উল্টে দিতে চায়, কমিশন সেই শক্তিগুলোকেই সাহায্য করছে। এই লড়াইটা শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নয়। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চান এমন প্রতিটি রাজনৈতিক দল এবং প্রতিটি ভোটারের লড়াই এটা।"
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে আজ সকালেই আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল প্রশ্ন তোলেন, "এইভাবে" কি নির্বাচন জেতা যায়? এক্স-এ কেজরিওয়াল লেখেন, "দেশকে মোদীজির জন্মদিনের উপহার। ওরা কি এভাবেই নির্বাচন জিতবে?"
বৃহস্পতিবার একটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশিকা জারি করে নির্বাচন কমিশন। সেখানে বলা হয়, নেতৃত্বের বিবাদ পুরোপুরি না মেটা পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের বিবদমান দুটি গোষ্ঠীর কেউই 'সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস' নাম বা দলের 'জোড়া ঘাসফুল' প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। ইসিআই-এর নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, "শ্রী অরূপ রায়ের (আবেদনকারী) নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী এবং সুশ্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (প্রতিবাদী) নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী—এই দুটির কেউই 'সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস' দলের নাম ব্যবহার করার অনুমতি পাবে না।" বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির নির্বাচন সদনে এই বিষয়ে শুনানি হয়। সেখানে দুই শিবিরের চূড়ান্ত বক্তব্য শোনার পরেই এই নির্দেশ দেয় কমিশন।