
রাম মন্দিরের অনুদান নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই সোমবার বিকেল ৩টেয় মন্দির চত্বরে বৈঠকে বসতে চলেছে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট। সূত্রের খবর, এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। জানা গিয়েছে, এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করার কথা ট্রাস্টের প্রেসিডেন্ট নৃত্য গোপাল দাসের। বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দ দেব গিরি, বিশ্বপ্রসন্নতীর্থ, স্বামী পরমানন্দ গিরি, জগদ্গুরু বাসুদেবানন্দ সরস্বতী, কৃষ্ণ মোহন, অনিল মিশ্র এবং সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই।
এছাড়াও পদাধিকারবলে এই বৈঠকে থাকার কথা জেলাশাসক শশাঙ্ক ত্রিপাঠী, উত্তরপ্রদেশের স্বরাষ্ট্র সচিব সঞ্জয় প্রসাদ, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি প্রশান্ত লোখান্ডে এবং নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্রর। ট্রাস্টের আরেক সদস্য কে. পরাশরণ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেবেন বলে জানা গিয়েছে।
তবে সূত্রের খবর, ট্রাস্টের প্রেসিডেন্ট নৃত্য গোপাল দাসের শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় তিনি বৈঠকে যোগ দিতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই বিতর্কের জেরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলি তদন্তের দাবি তুলেছে, অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এর আগে, রাম মন্দিরের অনুদান নয়ছয়ের অভিযোগ নিয়ে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সদস্য দিনেন্দ্র দাস এএনআই-কে বলেন, "ট্রাস্ট যে কোনও রায়ই মেনে নেবে... রামলালার জায়গায় যদি সত্যিই চুরি হয়ে থাকে, তাহলে মৃত্যুদণ্ডও মাথা পেতে নেব।"
এদিকে, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহন এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাজেন্দ্র সিং 'পঙ্কজ' অযোধ্যার বৈদেহী ভবনে যান। সেখানেই থাকছেন গোবিন্দ দেবগিরি মহারাজ।
অন্যদিকে, অনুদান চুরির অভিযোগের তদন্তও এগিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই মামলায় অভিযুক্ত আটজনের মধ্যে পাঁচজনকে জেরা করার জন্য আদালতের অনুমতি পেয়েছে অযোধ্যা পুলিশ। জেলে বন্দি থাকা অভিযুক্ত—অনুকূল মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, রাম শঙ্কর যাদব, করুণেশ পাণ্ডে এবং মণীশ যাদবকে জেলের মধ্যেই জেরা করে তাদের বয়ান রেকর্ড করা হবে।
পাশাপাশি, অযোধ্যা সন্ত মণ্ডলী শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইকে সমর্থন জানিয়েছে এবং তাঁর ইস্তফা গ্রহণ না করার জন্য ট্রাস্টকে অনুরোধ করেছে।