
বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গে 'মেরুকরণের' রাজনীতির অভিযোগ তুলেছেন। রাহুলের দাবি, মমতার এই রাজনীতির জন্যই রাজ্যে বিজেপি 'ঢোকার সুযোগ' পেয়েছে। এই মন্তব্যের পরেই রাহুলকে কটাক্ষ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তিনি বলেন বঙ্গ রাজনীতি নিয়ে রাহুল গান্ধী নিজেই পুরোপুরি বিভ্রান্ত।
কিরেন রিজিজু রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের স্ববিরোধিতা তুলে ধরেছেন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা একদিকে বলছেন কংগ্রেস জিতবে, আবার অন্যদিকে তৃণমূলের সমালোচনা করে বলছেন তাদের জন্যই বিজেপি রাজ্যে জমি পেয়েছে। রিজিজু বলেন, "ব্যাপারটা বেশ বিভ্রান্তিকর... একদিকে রাহুল গান্ধীজি বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে একমাত্র কংগ্রেসই বিজেপিকে হারাতে পারে। আবার অন্যদিকে তিনিই বলছেন, তৃণমূলের মেরুকরণের রাজনীতির জন্য বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে জিতবে!"
গতকাল, রাহুল গান্ধী গান্ধী কংগ্রেসকে ভোট দেওয়ার আবেদন করে বলেন, "যদি মমতা জি একটি স্বচ্ছ সরকার চালাতেন এবং পশ্চিমবঙ্গে মেরুকরণ না করতেন, তাহলে বিজেপির বাংলায় ঢোকার কোনও পথই থাকত না।" তিনি আরও যোগ করেন, "কংগ্রেস পার্টি বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং তাদের হারাতে পারে।"
এর আগে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড়সড় জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। তিনি জানান, দলের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রথম দফায় ভোট হওয়া ১৫২টি আসনের মধ্যে ১১০টি আসন পাবে বিজেপি। এক সাংবাদিক সম্মেলনে অমিত শাহ বলেন, ৯০ শতাংশের বেশি রেকর্ড ভোটদানের হার এটাই দেখাচ্ছে যে, মানুষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে 'উন্নয়ন' বেছে নিয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিদায় জানাচ্ছে। অমিত শাহ আরও বলেন, "বিজেপির বঙ্গ টিম তাদের সমীক্ষা করেছে। তার ভিত্তিতে আমি বলতে পারি যে ১৫২টি আসনের মধ্যে বিজেপি সম্ভবত ১১০টির বেশি আসন জিতবে। দ্বিতীয় দফার ভোট ধরলে, বিজেপি বাংলায় সরকার গড়তে চলেছে।"
বৃহস্পতিবার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ পর্ব সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে ৯১.৮৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। এই বিপুল ভোটদানের হার বুঝিয়ে দিচ্ছে যে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মানুষ সক্রিয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ হবে ২৯ এপ্রিল এবং ভোট গণনা ৪ মে।