
মহারাষ্ট্রের নান্দেড়ের একটি গুরুদ্বারে শিরোমণি অকালি দলের (SAD) প্রধান সুখবীর সিং বাদলের উপর হামলা হল। এই ঘটনার পরেই বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফোন করেন সুখবীরের স্ত্রী তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরসিমরত কৌর বাদলকে। তিনি সুখবীরের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন।
সূত্রের খবর, নান্দেড়ের গুরুদ্বার চত্বরে এক নিহাঙ্গের হামলায় জখম হন বাদল। তাঁর হাতে চোট লেগেছে। ঘটনার পরেই তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। নান্দেড় পুলিশ জানিয়েছে, বাদলের আঘাত গুরুতর নয়। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ এই হামলার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নান্দেড়ের পুলিশ সুপারের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন। ফড়নবীশ বাদলকে ফোন করেও তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন। বাদল মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন যে তিনি স্থিতিশীল আছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর (CMO) সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফড়নবীশ কর্তৃপক্ষকে হামলার কারণ খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। SAD-এর জাতীয় সহ-সভাপতি সঞ্জীব তলওয়ার এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, "সংবাদমাধ্যম থেকে আমরা জানতে পারি যে, দর্শন করতে যাওয়ার সময় সুখবীর সিং বাদলের উপর হামলা হয়েছে। ওঁর সঙ্গে থাকা লোকেদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি যে তাঁর হাতে চোট লেগেছে। আমরা শুনেছি যে তাঁর দেহরক্ষীও আহত হয়ে থাকতে পারেন।" তিনি আরও যোগ করেন, "সুখবীর সিং বাদল হিন্দু-শিখ ঐক্যের প্রচারক; তিনি পাঞ্জাব ও পাঞ্জাবিয়াতের কথা বলেন। এটা সরাসরি সুখবীর সিং বাদলের উপর হামলা নয়, বরং পাঞ্জাবের ঐক্য ও অখণ্ডতার উপর হামলা।"
তলওয়ার বাদলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, "যিনি Z+ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান এবং রাজ্যের প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তাঁর উপর এমন হামলা অবশ্যই একটি বড় নিরাপত্তা গাফিলতি।"
প্রসঙ্গত, প্রায় দু'বছর আগেও বাদলের উপর একবার হামলার চেষ্টা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে 'সেবা' করার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা হয়। নারায়ণ সিং চৌরা নামে এক ব্যক্তি এই চেষ্টা করেছিল, কিন্তু গুরুতর ক্ষতি করার আগেই তাকে ধরে ফেলা হয়।
২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত SAD নেতৃত্বাধীন পাঞ্জাব সরকারের নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তের কারণে অকাল তখ্ত বাদলকে 'তনখাইয়া' বা ধর্মীয় দোষে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। সেই ধর্মীয় শাস্তির অংশ হিসেবেই বাদল স্বর্ণমন্দির-সহ অন্যান্য শিখ তীর্থস্থানে 'সেবা' করছিলেন। ২০২৪ সালের সেই হামলার পরেও SAD নেতা বিক্রম সিং মাজিথিয়া পাঞ্জাব পুলিশের সমালোচনা করে বাদলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।