
Sukhoi Su-30: বিয়ের প্রস্তুতির মাঝেই যুদ্ধবিমান ভেঙে সব শেষ। শহিদ ভারতীয় বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ বশিষ্ঠ। প্রশিক্ষণ চলাকালীন শুক্রবার অসমে ভেঙে পড়ে ভারতীয় বায়ুসেনার সুখোই ৩০ যুদ্ধবিমান। শুক্রবার সকালে দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেছে বায়ুসেনার তরফে।
দুর্ঘটনায় শহিদ হয়েছেন স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ বশিষ্ঠ। গুরুগ্রামের বাসিন্দা বশিষ্ঠ পরিবারে গত কয়েকদিন ধরেই চলছিল উৎসবের মেজাজ। স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ বশিষ্ঠের বিয়ের তোড়জোড় ছিল তুঙ্গে। আত্মীয়-স্বজনদের ভিড় আর বিয়ের সানাইয়ের অপেক্ষায় মধ্যেই এলো চরম দুঃসংবাদ। শুক্রবার বিকেলের একটি ফোন কল মুহূর্তের মধ্যে আনন্দ উৎসবকে শোকে পরিণত করল।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে যখন পরিবারের সদস্যরা বিয়ের শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা এবং কাজকর্মের তদারকি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই সেনার পক্ষ থেকে খবর আসে যে, কর্তব্যরত অবস্থায় বিমান দুর্ঘটনায় শহিদ হয়েছেন অনুজ। তার এই অকাল মৃত্যুতে মুহুর্তের মধ্যে পাল্টে যায় বিয়ে বাড়ির পরিবেশ। ঘটনার খবরে কান্নার ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। সূত্রের খবর, আকাশপথে মহড়ার সময় বড়সড় দুর্ঘটনার কবলে পড়ল ভারতীয় বায়ুসেনার একটি সুখোই-৩০ এমকেআই (Su-30 MKI) যুদ্ধবিমান। আসামের কার্বি আংলং জেলায় বিমানটি ভেঙে পড়ায় প্রাণ হারিয়েছেন বায়ুসেনা কর্মকর্তা বশিষ্ঠ।
সূত্রের খবর, গত সন্ধ্যায় বায়ুসেনার সদর দপ্তর থেকে একটি ফোনের মাধ্যমেই বশিষ্ঠের পরিবারকে এই দুঃসংবাদটি জানানো হয়। ফোনের ওপারে থাকা আধিকারিক জানান যে, যান্ত্রিক গোলযোগের কারণেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে এবং কর্তব্যরত অবস্থায় বশিষ্ঠ শহিদ হয়েছেন। ভেঙে পড়া যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষের সাথে সাথেই যেন চুরমার হয়ে গিয়েছে একটি পরিবারের স্বপ্ন। গুরুগ্রামের সেক্টর ২২বি-র বাড়িতে এখন কেবলই স্বজনহারাদের ভিড়।
কিন্তু এই ভিড় আর কান্নাকাটির মাঝেও বাড়ির এক সদস্য এখনও রয়েছেন এক বুক আশা নিয়ে। তিনি বশিষ্ঠের মা, অনিতা দেবী। ছেলের মৃত্যুর খবরটি এখনও তাঁর কাছে পৌঁছাতে দেওয়া হয়নি। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বশিষ্ঠের মাকে জানানো হয়েছে যে তাঁর ছেলে বিমান দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন। কিন্তু রূঢ় বাস্তব এই যে, বশিষ্ঠ আর নেই।
বশিষ্ঠের বাবা অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার আনন্দ প্রকাশ। পরিবারে রয়েছেন মা অনিতা দেবী এবং একটি ছোট ভাইও। সামরিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা বশিষ্ঠ দেশের সেবায় প্রাণ দিলেও, তাঁর অনুপস্থিতি এই পরিবারে যে শূন্যতা তৈরি করল, তা অপূরণীয়। পরিবারের সদস্য প্রকাশবাবু আবেগঘন কণ্ঠে সংবাদমাধ্যমকে জানান, "অনুজ ওর প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেছে সেক্টর ১৪-র কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় থেকে। তারপর ও যোগ দেয় ভারতীয় বায়ুসেনায়। এমনকি অনুজের হবু স্ত্রীও একজন দক্ষ পাইলট বলে জানা গিয়েছে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।