
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার কারণে বিধানসভা ভোটের ফলাফলে প্রভাব পড়েছে, এই অভিযোগ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে (AITC) আলাদা করে আবেদন করার পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) নিয়ে দলের যা যা অভিযোগ, তা তারা আলাদা আবেদনের মাধ্যমে জানাতে পারে।
শুনানি চলাকালীন আদালত আরও জানায়, ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদনকারীদের যে সব আপিল এখনও বিচারাধীন, সে বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে একটি রিপোর্ট চাওয়া হবে। কীভাবে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা যায়, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে সওয়াল করেন সিনিয়র আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, SIR প্রক্রিয়ায় ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ফলেই ভোটের ফলাফলে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একটি কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮৬২ ভোটে হেরেছে, অথচ সেখানে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য প্রায় ৫,০০০ আবেদন বিচারাধীন।
এর জবাবে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জানান, SIR প্রক্রিয়ায় কোনও গাফিলতির অভিযোগ থাকলে তার জবাব কমিশন দেবে। কিন্তু ভোটের ফলাফল নিয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে, তার জন্য ইলেকশন পিটিশনের মাধ্যমে জানাতে হবে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায় পাল্টা যুক্তি দেন, কমিশনের এই SIR প্রক্রিয়াটিই ইলেকশন পিটিশনের একটি বড় ভিত্তি হবে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৬টি আসন পেয়েছিল। অন্যদিকে, ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল কংগ্রেস পায় ৮০টি আসন।
এর আগে গত ২৪ এপ্রিল, সুপ্রিম কোর্ট অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনালগুলিকে নির্দেশ দিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গে SIR প্রক্রিয়ায় যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাদের মামলার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি করতে হবে। বিশেষ করে, আবেদনকারীরা যদি মামলার জরুরিয়াত প্রমাণ করতে পারেন, তবে শুনানি আগে করতে হবে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ বাদ পড়া ব্যক্তিদের কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছেও নিজেদের অভিযোগ জানানোর স্বাধীনতা দিয়েছিল। বেঞ্চের তরফে বলা হয়, আবেদনকারীরা চাইলে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে প্রশাসনিক বা বিচারবিভাগীয় সাহায্যের জন্য যেতে পারেন। SIR প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়া যে ব্যক্তিরা অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন, তাঁদের মামলার যেন দ্রুত শুনানি করা হয়। শুনানিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হয়ে কল্যাণ ব্যানার্জি জানান, প্রায় ২৭ লক্ষ মামলার মধ্যে মাত্র ১৩৬টির নিষ্পত্তি হয়েছে। রাজ্য সরকার আপিলগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি আশা করেছিল।