সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গের ৩৫০-এর বেশি মাদ্রাসা শিক্ষক ও কর্মীর চাকরির দাবি খারিজ করে দিয়েছে। ২০০৮ সালের মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন আইন অসাংবিধানিক ঘোষণার পর এই নিয়োগগুলো হয়েছিল। এঁরা নিজেদের নিয়োগ বৈধ বলে দাবি করে বেতন চেয়ে মামলা করেছিলেন।
সোমবার সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গের ৩৫০-এর বেশি মাদ্রাসা শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর করা ৪০টিরও বেশি রিট পিটিশন খারিজ করে দিয়েছে।কলকাতা হাইকোর্টের একটি সিঙ্গল বেঞ্চ এবং পরে ডিভিশন বেঞ্চ 'পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন আইন, ২০০৮'-কে অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছিল। এরপরই রাজ্যের বিভিন্ন স্বীকৃত মাদ্রাসায় এই কর্মীদের নিয়োগ করা হয়। সেই নিয়োগকে বৈধতা দেওয়ার দাবিতেই তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
আবেদনকারীদের দাবি ও কমিটির সিদ্ধান্ত
আবেদনকারীদের দাবি ছিল, তাঁদের নিয়ম মেনেই নিয়োগ করা হয়েছে। তাই রাজ্য সরকারের 'গ্রান্টস-ইন-এইড' বা সরকারি অনুদান প্রকল্প অনুযায়ী তাঁরা বেতন পাওয়ার অধিকারী।এর আগে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট একটি কমিটি গঠন করেছিল। হাইকোর্টের রায়ের পর হওয়া নিয়োগগুলো খতিয়ে দেখার দায়িত্ব ছিল এই কমিটির। সেই কমিটিও আবেদনকারীদের দাবি খারিজ করে দেয়। আবেদনকারীরা শীর্ষ আদালতে এই কমিটির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের বেঞ্চ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়ে খতিয়ে দেখে। আদালত খতিয়ে দেখে যে, নিয়োগের সময় সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলোর বৈধ অনুমোদন ছিল কি না এবং তাদের পরিচালন কমিটি আইন মেনে তৈরি হয়েছিল কি না।
চূড়ান্ত রায়
বেঞ্চ জানিয়েছে, প্রতিনিধি হিসেবে যে মামলাগুলো দেখা হয়েছে, তার কোনোটিতেই স্বস্তি দেওয়ার মতো কোনো ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। আদালত জানায়, এই রিট পিটিশনগুলোর কোনো যোগ্যতা নেই। এই যুক্তিতে সমস্ত আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়, যার ফলে ৩৫০-এর বেশি কর্মীর চাকরির দাবি বাতিল হয়ে গেল।