
Train Suicide Attempt: চরম উপস্থিত বুদ্ধি ও অসমসাহসিকতার জোরে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেল একটি প্রাণ। মুম্বইয়ের ব্যস্ততম দাদর রেলওয়ে স্টেশনে চলন্ত লোকাল ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে এক যুবকের আত্মহত্যার চেষ্টা ভেস্তে দিলেন রেল পুলিশের (GRP) এক সতর্ক মহিলা কনস্টেবল। হাড়হিম করা সেই উদ্ধারের দৃশ্য ইতিমধ্যেই স্টেশনের সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরায় বন্দি হয়েছে এবং ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই প্রশংসায় ভাসছেন সেই মহিলা পুলিশ কর্মী।
রেল পুলিশ সূত্রের খবর, গত ৩০ জুলাই রাতে দাদর স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এই শিহরণ জাগানো ঘটনাটি ঘটে। রাত পৌনে ১১টা নাগাদ চার্চগেট থেকে বরিবলিমুখী একটি ধীরগতির লোকাল ট্রেন যাত্রী তুলে সবে মাত্র গতি নিতে শুরু করেছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই ২৮ বছর বয়সি এক যুবক আচমকা প্ল্যাটফর্মে শুয়ে পড়ে চলন্ত ট্রেনের ফুটবোর্ডের নিচে নিজের মাথা গলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
দেখুন ভাইরাল ভিডিও
A man tried to commit suicide at #Dadar station he was pulled by the #Mumbai Central Railway Police female constable A A Narwade
Train was going towards #Borivali@HT_Mumbai#railway pic.twitter.com/MTgI8F10xf— Vinay Dalvi (@Brezzy_Drive) August 1, 2026
রাত্রিকালীন টহলদারির দায়িত্বে ছিলেন মহিলা হেড কনস্টেবল অনিতা নরবডে ও তাঁর সহকর্মীরা। যুবকের এই ভয়ানক পদক্ষেপ নজরে আসতেই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে দৌড়ে যান অনিতা। ট্রেনটি আরও বেগ পাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনিতা ওই যুবকের পা ধরে সজোরে টেনে প্ল্যাটফর্মের দিকে বের করে আনেন। অল্পের জন্য ট্রেনের চাকার হাত থেকে রক্ষা পান ওই যুবক। সিসিটিভি ফুটেজে পরিষ্কার দেখা গিয়েছে, পুলিশ কর্মীর ওই দ্রুত সিদ্ধান্ত ও কয়েক সেকেন্ডের তৎপরতা না থাকলে এক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি ঘটে যেতে পারত। মুম্বই সেন্ট্রাল জিআরপি-র এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অনিতা নরবডের এই সাহসিকতার ফলেই একটি তাজা প্রাণ অকালমৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
উদ্ধারের পর পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, পারিবারিক অশান্তি ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কারণেই ওই যুবক চরম পথ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ওই যুবক সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশ থেকে মুম্বইয়ে তাঁর আত্মীয়দের বাড়িতে এসেছিলেন। ঘটনার সময় তিনি কিছুটা মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলেও জিআরপি সূত্রে খবর। রেল পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক চিকিৎসার পর ওই যুবককে মানসিক সুরক্ষার কথা ভেবে কাউন্সেলিং এবং একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছেন আধিকারিকরা। একজন কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীর এমন তৎপরতায় এক যুবকের প্রাণ বেঁচে যাওয়ায় সর্বস্তরে তাঁকে কুর্নিশ জানানো হচ্ছে।