
মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে শাহি মসজিদ চত্বরে সোমবারও কড়া নিরাপত্তা বহাল রয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর পাওয়া খবর অনুযায়ী, আসন্ন সিংহস্থ কুম্ভ মেলার প্রস্তুতির জন্য রাস্তা চওড়া করার কাজ চলছে। আর সেই কারণেই শাহি মসজিদের একাংশ ভাঙা হয়। এর প্রতিবাদে সোমবার উজ্জয়িনীতে দফায় দফায় বিক্ষোভ ও পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটে।
রাস্তা চওড়া করার জন্য একটি সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ নিজেরাই মসজিদের একটা অংশ ভেঙে দেন। কিন্তু এই নিয়ে অন্য গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। রাস্তায় নেমে বিক্ষোভকারীরা গলির ভেতর দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। মহিলাদের সামনে রেখে তারা প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথরও ছোড়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে।
মসজিদ ভাঙার এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ি। মানুষের আবেগকে সম্মান জানানোর জন্য তিনি রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করেছেন। কংগ্রেস সাংসদ বলেন, "রাস্তা চওড়া করার অজুহাতে উজ্জয়িনীর শাহি মসজিদ ভাঙার ক্ষেত্রে প্রশাসনের আরও একটু সংবেদনশীল হওয়া উচিত ছিল। উন্নয়নের নামে রাস্তা চওড়া করতে গিয়ে ৬০০ বছরের পুরনো একটা ঐতিহ্যবাহী স্থান ভেঙে ফেলাটা চরম ঘৃণার নিদর্শন। বিষয়টি যখন আদালতে বিচারাধীন, তখন বারবার মসজিদ ঘেরাও করে প্রশাসন কী বার্তা দিতে চাইছে? উজ্জয়িনীর হাজার হাজার যুবক এই নিয়ে টানা আওয়াজ তুলছেন। উজ্জয়িনী প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ, মানুষের আবেগকে সম্মান জানান। রাস্তা চওড়া করার জন্য উল্টোদিক থেকে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করুন। এমন একটা ঐতিহাসিক স্থান ভেঙে ফেলাকে কোনওভাবেই সাধারণ ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না।"
এর আগে, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব নিজের পৈতৃক বাড়ি ভেঙে উজ্জয়িনীতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের সূচনা করেন। ২০২৮ সালের সিংহস্থ মেলার আগে রাস্তা চওড়া করার জন্য উজ্জয়িনীতে মোট ২৭২টি কাঠামো ভাঙার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব জানান, ছোটবেলার বাড়ি ভাঙার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত আবেগ জড়িয়ে থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে এটা জরুরি ছিল। তিনি বলেন, "এই জায়গায় আমি খেলেছি, দৌড়ে বেড়িয়েছি, বড় হয়েছি। আর আজ নিজের হাতেই সেটা ভাঙতে এগিয়ে এসেছি। এর সঙ্গে অবশ্যই একটা আবেগ জড়িয়ে আছে। কিন্তু প্রশাসনের প্রয়োজনে এবং সিংহস্থ মেলার জন্য যদি এটা দরকার হয়, তবে এইটুকু ত্যাগ তো করতেই হবে। আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে এই কাজটা করছি ভেবে আমার ভালো লাগছে।" তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের কারণে যাঁদের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাঁদের সামনে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "গোটা রাজ্য এবং দেশ এটা দেখছে। মানুষ স্বেচ্ছায় এবং হাসিমুখে নিজেদের বাড়ি ভেঙে ফেলছেন। বৃহত্তর স্বার্থে তাঁরা নিজেদের উৎসর্গ করছেন যাতে অন্যরাও এর সুফল পান।"
উজ্জয়িনী পুরসভার চেয়ারপার্সন কলাবতী যাদব আসন্ন এই ধর্মীয় সমাবেশের প্রস্তুতির বিশালতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। প্রতি ১২ বছর অন্তর আয়োজিত এই মেলা বিশ্বের অন্যতম বড় আধ্যাত্মিক সমাবেশ। তিনি বলেন, "২০২৮ সালে শিপ্রা নদীর তীরে উজ্জয়িনীতে সিংহস্থ মেলা অনুষ্ঠিত হবে। ১২ বছর পর পর হওয়া এই মেলা বিশ্বের অন্যতম বড় আধ্যাত্মিক জমায়েত। শহরের উন্নতির জন্য প্রায় ২৯ কিলোমিটার নতুন ঘাট, ডাইভারশন প্রজেক্ট, বাঁধ এবং অন্যান্য পরিকাঠামোগত কাজ সহ ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ভিড় সামলাতে রাস্তা চওড়া করাটা এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।"
২০২৮ সালের সিংহস্থ মেলায় বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগম হবে। তাঁদের সুবিধার্থেই উজ্জয়িনীতে পরিকাঠামো উন্নয়নের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে, আর রাস্তা চওড়া করার কাজ তারই একটা অংশ।