Assam Tourism: আছে লেক-ড্যাম-পাহাড়, গরম থেকে রেহাই পেতে ঘুরে আসুন অসমের 'গোপন' শৈলশহর উমরাংসু

Published : Jun 04, 2026, 12:07 AM IST
Assam Tourism

সংক্ষিপ্ত

Travel and Tourism: অসম (Assam) বললেই আমাদের মাথায় আসে কাজিরাঙার গন্ডার বা মানসের জঙ্গল। কিন্তু গরমে জঙ্গলে সাফারি কষ্টের। তাই এবার রুট বদলান। ডিমা হাসাও জেলার কোলে লুকিয়ে আছে উমরাংসু—অসমের একমাত্র শৈলশহর। কপিলি নদীর উপর বিশাল ড্যাম, পাহাড় ঘেরা গরমপানি লেক, সবুজ টিলা আর হাওরের মতো জলাভূমি। গরমেও টেম্পারেচার ২২-২৮°C।

Assam Tourist Place: মে-জুনের ছুটিতে সবাই দৌড়ায় শিলং, দার্জিলিং বা গ্যাংটক। ফল? হোটেল নেই, রাস্তায় জ্যাম, আর পকেট ফাঁকা। অথচ অসমের বুকেই লুকিয়ে আছে এক টুকরো মেঘালয়। নাম উমরাংসু। গুয়াহাটি থেকে ৭ ঘণ্টা, হাফলং থেকে ২ ঘণ্টা। পাহাড়, লেক, ড্যাম, ঝর্ণা—সব আছে, নেই শুধু ট্যুরিস্টের হট্টগোল। ডিমা হাসাওয়ের এই ছোট্ট শহর এখনও ‘ভার্জিন’। তাই প্রকৃতি এখানে কথা বলে, কোলাহল না। উমরাংসুকে লোকে চেনে কপিলি হাইডেল প্রজেক্টের জন্য। কিন্তু এই ড্যামই এখানকার সবচেয়ে বড় ট্যুরিস্ট স্পট। পাহাড়ের খাঁজে বিশাল জলাধার, চারদিকে সবুজ টিলা। বিকেলে সূর্য যখন জলে পড়ে, মনে হবে সুইজারল্যান্ড। ড্যামের গেট থেকে জল ছাড়লে যে কৃত্রিম ঝর্ণা তৈরি হয়, সেটা দেখতেই লোকে দূর থেকে আসে। এখানে বোটিংও হয়। স্পিডবোটে ১০ মিনিটের রাইড মাত্র ১০০ টাকা। শহরের গরমে যখন হাঁসফাঁস করছেন, এখানে তখন কম্বল লাগবে রাতে।

অন্যতম আকর্ষণ উমরাংসু লেক

ড্যাম থেকে ১৫ কিমি গেলেই পাবেন লেক। নাম গরমজল বা গরমপানি লেক কিন্তু জল বরফ-ঠান্ডা। চারদিকে পাইন গাছ, মাঝে টলটলে লেক। পিকনিকের আইডিয়াল স্পট। লোকালরা এখানে মাছ ধরে। আপনি চাইলে ছিপ ভাড়া নিয়ে বসে পড়ুন। লেকের পাশেই আছে হট স্প্রিং। সালফারযুক্ত গরম জল চুইয়ে পড়ছে। লোকাল বিশ্বাস, এই জলে স্নান করলে চর্মরোগ সারে। বিজ্ঞান বলছে, সালফারে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ আছে। স্নান করুন বা না করুন, পা ডুবিয়ে বসে থাকার ফিলটাই আলাদা। উমরাংসুর আসল ম্যাজিক হল ‘উমরাংসু হাওর’। হাওর মানে জলাভূমি। বর্ষার আগে এই বিশাল এলাকা সবুজ ঘাসের কার্পেট হয়ে যায়। তার মাঝে আঁকাবাঁকা জলের ধারা। দূরে বরাইল পাহাড়ের রেঞ্জ। ড্রোন শট নিলে মনে হবে স্কটল্যান্ড। এখানেই পরিযায়ী পাখি আসে শীতে। গরমে পাবেন লোকাল পাখি, আর সবুজের সমুদ্র। বিকেলে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। লোকজন কম, রাস্তা ফাঁকা, শুধু আপনি আর পাহাড়।

কী খাবেন?

খাবার নিয়ে ভাববেন না। উমরাংসু ডিমাসা, কার্বি, নেপালি মানুষের মিক্স কালচার। তাই খাবারেও ভ্যারাইটি। লোকাল মার্কেটে ঢুকুন। ট্রাই করুন ‘মাইজু’—বাঁশের চোঙে রান্না করা মাংস, ‘জুদিমা’—ডিমাসাদের ট্র্যাডিশনাল রাইস বিয়ার, আর ফ্রেশ কপিলি নদীর মাছ। দাম শুনলে চমকে যাবেন। গুয়াহাটির হাফ রেটে ফুল প্লেট থালি পাবেন। থাকার জন্য NEEPCO-র গেস্ট হাউস বেস্ট। অনলাইন বুকিং হয়। ৮০০-১২০০ টাকায় লেক-ভিউ রুম। এছাড়া ছোট হোমস্টেও আছে।

কীভাবে যাবেন? 

গুয়াহাটি থেকে উমরাংসু যাওয়ার সরাসরি বাস আছে, ৭-৮ ঘণ্টা লাগে। ট্রেনে গেলে লামডিং জংশনে নামুন, সেখান থেকে গাড়ি ৩ ঘণ্টা। বেস্ট হল হাফলং ঘুরে উমরাংসু আসা। হাফলং থেকে শেয়ার গাড়ি চলে। রাস্তা পুরোটাই পাহাড়ি, কিন্তু ভিউ এত সুন্দর যে জার্নি বোরিং লাগবে না। বেস্ট টাইম মার্চ থেকে জুন, আর সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর। বর্ষায় ল্যান্ডস্লাইড হয়, তাই জুলাই-আগস্ট এড়িয়ে চলুন। উমরাংসু থেকে ১ দিনের ট্রিপে ঘুরে আসুন পানিমুর। কপিলি নদী এখানে পাথরের উপর দিয়ে লাফিয়ে নামছে, তৈরি হয়েছে মিনি নায়াগ্রা। লোকালরা বলে ‘পানিমুর ফলস’। গরমে জলে পা ডুবিয়ে বসলে সব ক্লান্তি উধাও। আরও সময় থাকলে চলে যান মাহুর। ব্রিটিশ আমলের হ্যাঙ্গিং ব্রিজ, টানেল, আর ভিউ পয়েন্ট থেকে বরাইল রেঞ্জ দেখা যায়। পুরো ডিমা হাসাও জেলাটাই একটা আনকাট ডায়মন্ড। তাহলে এই গরমে গতানুগতিক রুট ছাড়ুন। কাজিরাঙা, মানস পরে হবে। শিলং-এর ভিড়, দার্জিলিং-এর দাম—দুটোই স্কিপ করুন। ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন উমরাংসুর জন্য। পাহাড়, লেক, ড্যাম, আর নিঃশব্দতা—এই কম্বো ৫ হাজার টাকার মধ্যে পাবেন না কোথাও। অসমের এই গোপন শৈলশহর আপনাকে ফিরতে দেবে না, কথা দিলাম।

শেষ কথা: উমরাংসু ডিমা হাসাও জেলার অংশ। বর্ষাকালে ধসপ্রবণ অঞ্চল। যাওয়ার আগে রাস্তার অবস্থা ও আবহাওয়া লোকাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা NEEPCO গেস্ট হাউস থেকে জেনে নিন। ইনার লাইন পারমিট লাগে না, তবে আইডি কার্ড সঙ্গে রাখুন। ড্যাম অঞ্চলে ছবি তোলার নিয়ম মেনে চলুন।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

S-400 Sudarshan: আরও শক্তিশালী ভারতের আকাশসীমা, রাশিয়া থেকে এল চতুর্থ S-400 'সুদর্শন'
IMD Weather Update: দেশের বর্ষার আগমণ আর মাত্র কয়েক ঘন্টার প্রতীক্ষা! স্বস্তির ধারা নামবে এই রাজ্যগুলোতে