
এবারের বাজেটে বড় ঘোষণা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের। তিনি ঘোষণা করেন ভারত শহরগুলির মধ্যে ৭টি উচ্চ-গতির রেল করিডোর তৈরি করবে। সংসদে ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করার সময় সীতারামন বলেন, এই উচ্চগতির করিডোরগুলো মুম্বাইকে পুনের সঙ্গে, হায়দরাবাদকে পুনের সঙ্গে, হায়দরাবাদকে বেঙ্গালুরুর সঙ্গে, চেন্নাইকে বেঙ্গালুরুর সঙ্গে, দিল্লিকে বারাণসীর সঙ্গে এবং বারাণসীকে শিলিগুড়ির সঙ্গে সংযুক্ত করবে। বাংলার জন্য বড় ঘোষণা। ডানকুনিতে তৈরি হবে পণ্য পরিবহণের বিশেষ করিডর। একই করিডর তৈরি হবে সুরতেও। সাতটি হাইস্পিড রেল করিডর তৈরি করা হবে, যার মধ্যে একটি হবে শিলিগুড়িতে। দুর্গাপুরে শিল্প করিডর গড়ে তোলার প্রস্তাবের কথা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী জানান, ওড়িশার তালচের থেকে কলিঙ্গনগর হয়ে পারাদ্বীপ পর্যন্ত জলপথে বাণিজ্যের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। এই জলপথগুলিতে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে আলাদা করে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। রেল ও সড়কপথের পাশাপাশি জলপথে বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে পরিবহণ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই সাতটি রেল করিডরের মাধ্যমে অর্থনৈতিক হাব, তথ্যপ্রযুক্তি হাব, পরিকাঠামো ক্লাস্টার, উন্নয়নশীল শহরগুলিকে সংযুক্ত করা হবে। এতে এই শহরগুলির মধ্যে যাতায়াতের সময় কমবে। যা আদতে উন্নয়নকেই ত্বরান্বিত করবে বলে মত নির্মলার।
ভারতের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় বাজেটের অংশ হিসেবে বিরল আর্থ করিডোর স্থাপনের ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। বাজেট বক্তৃতায়, সীতারামন বলেন যে সরকার খনিজ সমৃদ্ধ রাজ্যগুলিকে ডেডিকেটেড রেয়ার আর্থ করিডোর তৈরিতে সহায়তা করবে। এই করিডোরগুলি ওড়িশা, কেরালা, অন্ধ্র প্রদেশ এবং তামিলনাড়ুকে সংযুক্ত করবে।
বাজেট ভাষণে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বিরল খনিজ নির্ভর স্থায়ী চুম্বক উৎপাদনের জন্য একটি বিশেষ প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। সেই প্রকল্পকে আরও কার্যকর করতে এবার খনিজ-সমৃদ্ধ রাজ্যগুলিকে সহায়তা দিয়ে রেয়ার আর্থ করিডর গড়ে তোলার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। রেয়ার আর্থ উপাদান আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈদ্যুতিক যান, বায়ুশক্তি উৎপাদন, মোবাইল ফোন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং উন্নত ইলেকট্রনিক্সে এই খনিজের ব্যবহার অপরিহার্য। বিশেষ করে রেয়ার আর্থ দিয়ে তৈরি স্থায়ী চুম্বক পরিষ্কার জ্বালানি ও উচ্চ প্রযুক্তির উৎপাদনে মূল ভূমিকা পালন করে।
প্রস্তাবিত করিডরের মাধ্যমে খনিজ উত্তোলন, প্রক্রিয়াকরণ এবং পরিবহণ—এই প্রক্রিয়াটিকে একটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। বিভিন্ন রাজ্যের খনিজ সম্পদকে যুক্ত করে সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নত করা, খরচ কমানো এবং দ্রুত উৎপাদন নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।