UP Murder: উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচ জেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। জমি ও গয়না নিয়ে বিবাদের জেরে এক ব্যক্তি তার বাবা-মা, দিদি এবং ঠাকুমা-সহ পরিবারের চারজনকে কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছে বলে অভিযোগ।
উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচ জেলায় সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরে এক ভয়ঙ্কর ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ, এক ব্যক্তি নিজের পরিবারেরই চার সদস্যকে নৃশংসভাবে খুন করেছে। জমি ও গয়না নিয়ে ঝামেলার কারণেই এই ঘটনা বলে পুলিশ জানিয়েছে। সোমবার কর্মকর্তারা এই খবর দেন।
210
পরিবারের ৪ সদস্যকে খুন
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার মাঝরাতে রূপাইডিহা থানা এলাকার বসন্তপুর উদল গ্রামে।
এএসপি (গ্রামীণ) দুর্গাপ্রসাদ তিওয়ারি জানান, গ্রামের বাসিন্দা বদলু বর্মার বড় ছেলে গুরুদেব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি বলেছেন, তার ছোট ভাই নিরঙ্কর জমি ও গয়না নিয়ে বিবাদের জেরে মাথা গরম করে ফেলে। এরপর সে কুড়ুল দিয়ে তাদের বাবা-মা, ঠাকুমা এবং দিদিকে কুপিয়ে খুন করে।
310
বিবাদের সূত্রপাত টাকার বখরা
দুর্গাপ্রসাদ তিওয়ারি বলেন, "আজ রূপাইডিহা থানার ইনস্পেক্টরের কাছে বসন্তপুর উদল গ্রামের বাসিন্দা বদলু বর্মার ছেলে গুরুদেব একটি লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ১ মার্চ রাত ১২টা নাগাদ চিৎকার শুনে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। তিনি দেখেন, তার ছোট ভাই নিরঙ্কর বিক্রি করা জমি ও গয়নার টাকা না দেওয়া নিয়ে বাবার সঙ্গে তর্ক করছিল। এরপরই রাগের মাথায় সে তার মা, বাবা, ঠাকুমা ও দিদিকে কুড়ুল দিয়ে আঘাত করে। গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।"
এএসপি আরও জানান, নিরঙ্কর তার দাদা গুরুদেবকেও প্রাণে মারার জন্য কুড়ুল দিয়ে হামলা করে। গুরুদেবের ছেলে আজাদ এই পুরো ঘটনাটা নিজের চোখে দেখে। এরপর গুরুদেব চিৎকার শুরু করলে গ্রামবাসীরা ছুটে আসেন। তখন নিরঙ্কর একটি ইট দিয়ে নিজের মাথায় বেশ কয়েকবার আঘাত করে নিজেকেও গুরুতর জখম করে।
510
অভিযুক্ত গ্রেফতার
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। প্রথমে তাকে বাহরাইচের জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে লখনউতে রেফার করা হয়। অন্যদিকে, অভিযোগকারী গুরুদেব রূপাইডিহার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
610
মৃতদের পরিচয়
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৃতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন বদলু রাম (৬০), তার স্ত্রী সঞ্জু দেবী (প্রায় ৫৬), তাদের মেয়ে পার্বতী (প্রায় ৪২) এবং রাম ফেরানের স্ত্রী শীতলা (প্রায় ৮০)। দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য বাহরাইচের জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
710
মামলা দায়ের
গুরুদেবের অভিযোগের ভিত্তিতে রূপাইডিহা থানায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১০৩(১) এবং ১০৯(১) ধারায় একটি মামলা (ক্রাইম নম্বর ৪১/২০২৬) রুজু করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। ঠিক কী কারণে পরিবারের মধ্যে এমন হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হল, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
810
অভিযোগকারীর বয়ান
এদিকে, এই ঘটনা নিয়ে অভিযোগকারী গুরুদেব জানান, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড।
তিনি বলেন, "আমার ছোট ভাই ওদের খুন করেছে। আমি ঘুম থেকে উঠে ওকে জিজ্ঞেস করি, কেন এমন করছিস? তখন ও আমার মাথায়ও কুড়ুল দিয়ে মারে।"
910
পরিবারে অশান্তির অভিযোগ ছিল
গুরুদেব আরও দাবি করেন, মাসখানেক আগেও একই বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়েছিল।
তিনি বলেন "তখন থানার এক অফিসার ওকে শান্ত হতে বলেছিলেন, কারণ এটা বাড়ির ভেতরের ব্যাপার ছিল। কিন্তু এবার ও সবাইকে মেরে ফেলল। বাবা-মা তাদের জমি বিক্রি করে সেই টাকা ওকে দিচ্ছিল না, আমাকেও না। এই নিয়েই ঝামেলা ছিল আর তার জন্য ও সবাইকে খুন করে দিল।"
1010
তদন্ত চলছে
পুলিশ জানিয়েছে ঘটনার তদন্ত চলছে। সবদিক খতিয়ে দেখে তবেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।