
UP: গরীব চা-ওয়ালার বাড়ির বিদ্যুতের বিল ১ লক্ষ ৫৮ হাজার টাকা! আর তার জেরে মানসিক চাপ থেকে আত্মহত্যার অভিযোগ। উত্তরপ্রদেশের এটাওয়া জেলার ভরতনা এলাকার এক দরিদ্র চা-ওয়ালা শিবপাল সিং কাশ্যপের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রায় ৫৫ বছর বয়সী শিবপাল মহাবীর নগর সংকিসার পুর এলাকায় থাকতেন এবং একটি ঠেলাগাড়িতে চা বিক্রি করে কোনোরকমে সংসার চালাতেন। প্রায় তিন মাস আগে তাঁর বাড়িতে একটি স্মার্ট মিটার বসানো হয়। তার পর থেকেই বিপত্তি শুরু। মাত্র ২-৩ মাসের মধ্যে তাঁর বাড়িতে প্রায় ১.৬ লক্ষ টাকার বিদ্যুৎ বিল আসে, যা তাঁর স্বাভাবিক ব্যবহার অনুযায়ী একেবারেই অস্বাভাবিক ও চমকে দেওয়ার মতো। এত বড় অঙ্কের বিল দেখে তিনি ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ইলেকট্রিক বিল সংশোধনের জন্য তিনি বারবার বিদ্যুৎ দফতরের দ্বারস্থ হন। কিন্তু অভিযোগ, কোনও সুরাহা না করে তাঁকে এক অফিস থেকে অন্য অফিসে ঘুরতে বলা হয়। কোথাও দেরি, কোথাও গাফিলতি, এমনকি ঘুষ চাওয়ার অভিযোগও উঠেছে কিছু ক্ষেত্রে। এই পরিস্থিতিতে দিন দিন তাঁর মানসিক চাপ বাড়তে থাকে।
দেখুন কী বলছে মৃতর পরিবার
গত বুধবার তিনি বিদ্যুৎ দফতরে গিয়েছিলেন সমস্যার সমাধানের আশায়, কিন্তু সেদিনও হতাশ হয়ে ফিরে আসেন। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় সেদিন রাতে ঠিকমতো ঘুমোতে পারেননি তিনি। পরের দিন সকালে, বৃহস্পতিবার আচমকাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। শিবপালের মেয়ে রাখির অভিযোগ, কয়েক দিন ধরেই তাঁর বাবা প্রবল মানসিক চাপে ভুগছিলেন। পরিবারের দাবি, স্মার্ট মিটারের ভুল রিডিং এবং দফতরের উদাসীনতাই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ পরিবার ও স্থানীয় মানুষজন বিদ্যুৎ দফতরের এসডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান। প্রতিবাদের চিহ্ন হিসেবে শিবপালের দেহও দফতরের সামনে রাখা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের বিশাল বাহিনী এবং বিদ্যুৎ বিভাগের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। এই ঘটনাকে ঘিরে এটাওয়া জুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। স্মার্ট মিটার বসানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, এই ঘটনা সেই আশঙ্কাকেই আরও বাড়িয়ে দিল।