
দিল্লি: শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দির ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে চম্পত রাই ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁর জায়গায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP) বজরংলাল বাগদার নাম প্রস্তাব করেছে। বজরংলাল বর্তমানে VHP-র জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাধারণ সম্পাদক। ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য বাগদার পাশাপাশি বর্তমান সদস্য কৃষ্ণমোহনের নামও ভাবা হচ্ছে। এছাড়া, ট্রাস্টের সদস্য হিসেবে VHP-র ইন্দ্রপ্রস্থ অঞ্চলের সচিব নীরজ দৌনেরিয়ার নামও আলোচনায় রয়েছে। শোনা যাচ্ছে, দুজন সদস্য ভার্চুয়ালি এই বৈঠকে যোগ দিতে পারেন। অযোধ্যা মন্দিরে চুরির ঘটনা সামনে আসার পরেই চম্পত রাই এবং ট্রাস্টি ডঃ অনিল মিশ্র ইস্তফা দেন।
অযোধ্যা মন্দির নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ যখন তুঙ্গে, সেই আবহে আজ রাম জন্মভূমি মন্দির ট্রাস্টের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে চলেছে। অনুদানের টাকায় জালিয়াতির অভিযোগে ট্রাস্ট এখন প্রশ্নের মুখে। তাই তারা কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই সবার নজর। আজ বিকেল তিনটেয় অযোধ্যায় এই বৈঠক হবে, যেখানে চম্পত রাই-সহ অন্যদের ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা হবে। দুর্নীতির অভিযোগের কারণে আজকের বৈঠকে সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই সম্ভবত যোগ দেবেন না। দিল্লিতে ট্রাস্টের বৈঠকে নতুন কর্মকর্তাদের নাম নিয়ে আলোচনা হবে, যেখানে বজরংলাল বাগদার নামও প্রস্তাব করা হবে। তবে খালি হয়ে যাওয়া পদগুলিতে বা সিইও পদে কাকে নিয়োগ করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
চম্পত রাইয়ের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ
প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রসচিব লক্ষ্মী নারায়ণের একটি বয়ান চম্পত রাইয়ের অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের এপ্রিলে প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর তিনি অযোধ্যা মন্দিরে ১৫১ কেজি ওজনের সোনায় তৈরি 'রামচরিতমানস' গ্রন্থ দান করেছিলেন। চম্পত রাই নিজে সেটি গ্রহণ করলেও কোনও রসিদ দেননি। এখন সেই গ্রন্থটি কোথায়, তার কোনও তথ্য নেই। লক্ষ্মী নারায়ণ এই বিষয়ে SIT-কেও বয়ান দিয়েছেন।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অদ্ভুত দাবি
এরই মধ্যে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP) এক অদ্ভুত দাবি তুলেছে। যারা দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন, সেই বিরোধী নেতাদের ডেকে পাঠিয়ে প্রমাণ চাইতে পুলিশের কাছে আবেদন করেছে VHP। সংগঠনের সভাপতি অলোক কুমার অযোধ্যার ডিএসপি-কে চিঠি দিয়ে বলেছেন, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মতো নেতারা যখন কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ করেছেন, তখন তাঁদের কাছ থেকেই প্রমাণ চাওয়া হোক।