
মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের মেঘ এবং ভারতে বর্তমান এলপিজি সংকটের আবহে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জ্যোতিষী প্রশান্ত কিনির (@AstroPrashanth9) করা একটি পুরনো ভবিষ্যদ্বাণী বর্তমানে ভাইরাল হয়ে পড়েছে, যেখানে তিনি বর্তমান পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
কী ছিল সেই ভবিষ্যদ্বাণী?
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রশান্ত কিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'X'-এ একটি পোস্ট করেছিলেন। সেখানে তিনি দাবি করেছিলেন, "২০২৬ সালের মার্চের পর ভারত জ্বালানি এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকটের সম্মুখীন হবে... সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) ব্যাহত হবে"। বর্তমানে ভারতে এলপিজি সরবরাহে যে তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে, তার সাথে এই ভবিষ্যদ্বাণীর মিল দেখে হতবাক নেটিজেনরা।
বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেইর মৃত্যুর পর পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, ভারত তার প্রয়োজনীয় এলপিজি আমদানির প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশই এই পথ দিয়ে নিয়ে আসে।
জনজীবনে প্রভাব
গত ৮ই মার্চ (রবিবার) থেকে হঠাৎ করেই এলপিজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ব্যাঙ্গালুরুতে হোটেল ও রেস্তোরাঁ শিল্পের অবস্থা শোচনীয়; প্রায় ৩০ শতাংশ রেস্তোরাঁ বন্ধ হওয়ার মুখে। দিল্লিতে ঘরোয়া গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়ে ৯১৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে এবং বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দামও আকাশছোঁয়া। সরকার বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যবহারের চেয়ে ঘরোয়া রান্নার গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কলকাতায় ডবল সিলিন্ডার সংযোগ দেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট আরও অন্তত এক মাস স্থায়ী হতে পারে। নেটিজেনদের একাংশ একে নিছক কাকতালীয় বললেও, অনেকেই পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে জ্যোতিষীর দূরদর্শিতার প্রশংসা করছেন।