
ম্যাঙ্গালুরুতে ১১ জন বেআইনি বাংলাদেশি নাগরিক আটক হওয়ার পর তদন্তে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। এবার পশ্চিমবঙ্গের তিনজনের বিরুদ্ধে মানব পাচারের মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ, এরাই বাংলাদেশি শ্রমিকদের বেআইনিভাবে ম্যাঙ্গালুরুতে নিয়ে এসে বিভিন্ন কাজে ঢোকাত।
অভিযুক্তদের নাম মইদিন ইসলাম, রসুল ইসলাম এবং দিলওয়ার হুসেন। তিনজনই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। ম্যাঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনার সুধীর কুমার রেড্ডি জানিয়েছেন, মইদিন এবং দিলওয়ারকে ম্যাঙ্গালুরু শহর থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তৃতীয় অভিযুক্ত রসুল ইসলামের খোঁজ মেলে কলকাতায়। ম্যাঙ্গালুরু পুলিশ কলকাতা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে আটক করে।
কমিশনার রেড্ডি বলেন, "আমাদের ডেপুটি কমিশনার (আইনশৃঙ্খলা) কলকাতা পুলিশের সঙ্গে সফলভাবে যোগাযোগ করেন। এর ফলেই কলকাতায় থাকা অভিযুক্তকে খুঁজে বের করে আটক করা সম্ভব হয়েছে। ম্যাঙ্গালুরু থেকে একটি বিশেষ দল ইতিমধ্যেই কলকাতা রওনা দিয়েছে তাকে হেফাজতে নেওয়ার জন্য।"
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্তরা উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে ম্যাঙ্গালুরুর নির্মাণ প্রকল্পে শ্রমিক সরবরাহ করত। এই আন্তঃরাজ্য শ্রমিক পাঠানোর আড়ালেই তারা মুর্শিদাবাদ সীমান্ত দিয়ে বেআইনিভাবে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে ঢোকাত। এরপর তাদের ম্যাঙ্গালুরু এবং তার আশেপাশের নির্মাণকাজে লাগিয়ে দেওয়া হত। কমিশনার রেড্ডি আরও বলেন, "তৃতীয় অভিযুক্তকে ম্যাঙ্গালুরুতে এনে জেরা করলেই এই চক্রের আসল গভীরতা বোঝা যাবে। এই পাচারচক্রে আরও কোনো দালাল বা স্থানীয় সাহায্যকারী জড়িত আছে কি না, সেটাও স্পষ্ট হবে।"
প্রসঙ্গত, সোমবার ম্যাঙ্গালুরু শহরের উরভা থানা এলাকার দুটি আলাদা নির্মাণ সাইট থেকে ১১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে পুলিশ। ম্যাঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনার সুধীর কুমার রেড্ডি এই খবর নিশ্চিত করে জানান, আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একটি সাইট থেকে তিনজন এবং অন্যটি থেকে আটজন ছিলেন। পুলিশ কমিশনার বলেন, "তাদের আটক করে নির্বাসনের আদেশের জন্য FRRO-র কাছে একটি রিপোর্ট পাঠানো হবে। এখন নথিপত্র সংগ্রহের কাজ চলছে।"