৯ বছরে ইঞ্জিনিয়ার, তারপর আবার ডাক্তারি, দুনিয়া এখন বুঁদ এই বিস্ময় বালকে

Published : Nov 15, 2019, 11:08 AM ISTUpdated : Nov 15, 2019, 11:25 AM IST
৯ বছরে ইঞ্জিনিয়ার, তারপর আবার ডাক্তারি, দুনিয়া এখন বুঁদ এই বিস্ময় বালকে

সংক্ষিপ্ত

নয়ের দশকে বাংলা বুঁদ হয়েছিল ছোট্ট মৌসুমি-র মেধায় বহু বছর পরে ফের এমনই এক মেধার সন্ধান মিলল  লরেন্ট সাইমন্স নামে এই বিষ্ময় বালকের বয়স ৯ বছর বিশ্বজুড়ে নামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ছাত্র হিসাবে চাইছে লরেন্টকে

আর দশটা-পাঁচটা শিশুর মতোই খেলা করে বেড়ায় লরেন্ট সাইমন্স। তবে তার মেধার পরীক্ষা নিতে বসলেই চোখ কপালে উঠবে। লরেন্টের প্রবল মেধা-র বিষয়টি প্রথমে অস্বীকারও করেছিলেন তার মা-বাবা লিডিয়া ও অ্যালেকজান্ডার। আসলে লরেন্টের মেধা যে তার বয়সীদের থেকে অনেক এগিয়ে এবং প্রাপ্ত বয়ষ্কদের মতো তা প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন তার দাদু-দিদিমা এবং দিদিমণি। 

এহেন লরেন্ট সাইমন্স ডিসেম্বরের মধ্যেই পকেটে পুরে ফেলবে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ডিগ্রি। ইঞ্জিনিয়ারিং-এর পাশ-এর সার্টিফিকেট নেওয়ার সময় লরেন্ট-এর বয়স দশ-বছরও পূর্ণ হচ্ছে না। বেলজিয়ামে বাড়ি এই বিষ্ময় বালকের। সেখানকারই আইন্ডোভেন ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি বা সংক্ষেপে টুয়ে থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে লরেন্ট। পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং-এর পর-ই পিএইচডি-তে নাম লেখাবে সে। সেইসঙ্গে ডাক্তারি শিক্ষার পাঠ নেওয়াও চলবে। 

লরেন্টের মতো এক বিষ্ময় মেধাবী-কে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে পেরে গর্বিত টুয়ে। তাদের এক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর শিক্ষক লরেন্ট-কে 'আউটস্ট্যান্ডিং' বলেও মন্তব্য করেছেন। লরেন্টের মা লিডিয়া জানিয়েছেন ছেলের মেধা নিয়ে তিনি এবং তাঁর স্বামী খুব একটা পাত্তা দিতেন না। প্রায়শই লিডিয়া তাঁর বাবা-মা-কাছে লরেন্টের প্রতিভা সম্পর্কে নানা কথা শুনতেন। ভাবতেন নাতির স্নেহে অযথা তিল-কে তাল করছেন তাঁরা। লিডিয়া স্বামী তথা লরেন্টের বাবা অ্যালেকজান্ডার জানিয়েছন, তাঁর ছেলের দিদিমণি সমানে পরীক্ষা নিতেন। দিদিমণি না-কি বোঝার চেষ্টা করতেন লরেন্টের প্রতিভা কতটা প্রসারিত তা মাপার। পরে লিডিয়া ও অ্যালেকজান্ডারের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নাকি সেই দিদিমণি জানিয়েছিলেন, লরেন্টের প্রতিভা স্পঞ্জের মতো। যত চাপ দেবে ততই তা সঙ্কুচিত হয়ে আবার পুরনো আকারে ফিরে আসে।

লরেন্টের পরিবার ডাক্তারি পেশায় রয়েছে। ফলে পরিবারের লোকজন মনেই করেছিল পারিবারিক মেধাই লরেন্টের মধ্যে বেশি করে প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও, ইয়ার্কি-র ছলেই লিডিয়া দাবি করেছেন, আসলে এসব হল তাঁর বেশি করে মাছ খাওয়ার ফল। কারণ, লরেন্ট গর্ভে থাকার সময় নাকি লিডিয়া প্রচুর মাছ খেয়েছিলেন। 

লরেন্ট যেখানে ইঞ্জিনিয়ারিং-এর পড়াশোনা করছেন সেই টুয়ে-র এডুকেশন ডিরেক্টর সজোয়ার্ড হালসফ জানিয়েছেন, স্পেশাল ছাত্রদের জন্য বরাবরই তাদের বিশ্ববিদ্যালয় কিছু করে থাকে। তাই লরেন্টের জন্য শিক্ষাবর্ষে মাঝপথের পঠন-পাঠনে কিছু অদল-বদল করতে কোনও অসুবিধা পোহাতে হয়নি। আর লরেন্ট যেখানে শুধু অসম্ভব মেধাবী নয় সেইসঙ্গে আচার-ব্যবহারে অত্যন্ত লক্ষী ছাত্র বলেই মনে করেন তার শিক্ষকরা। 

লরেন্ট জানিয়েছে, ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং তার সবচেয়ে প্রিয় বিষয়। এমনকী ডাক্তারি নিয়েও সে অল্পবিস্তর পড়াশোনা করতে আগ্রহী। তার বিষ্ময় মেধা-র কথা জানার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে নামি-দামি বিশ্ববিদ্যালয় যোগযাগ করতে শুরু করেছে। এরা সকলেই তাদের ছাত্র হিসাবে লরেন্ট-কে চাইছে। যদিও, লরেন্টের মা লিডিয়া জানিয়েছেন, এই নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বেলজিয়াম থেকে দূরে কোথাও লরেন্টকে পাঠানোর তেমন কোনও পরিকল্পনা এখনও তাঁদের নেই। 

বড় হয়ে লরেন্ট কি ধরনের কাজ করতে চায়, তার উত্তরে ন'বছরের শিশু যা জানিয়েছে তাতে চোখ কপালে উঠবে। কারণ লরেন্ট জানিয়েছে সে আর্টিফিসিয়াল অর্গান তৈরি করতে চায়। সেই কারণে সে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে বিস্তারিত পড়াশোনা করছে। এর পাশাপাশি ডাক্তারির পাঠ তাকে চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কেও অবহিত করবে বলেই মনে করে ছোট্ট লরেন্ট। 

PREV
click me!

Recommended Stories

India-Japan Relations: মোদী জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে 'ছোটি বহেন' কেন বললেন? আসল কারণটি জানুন
Anil Menon Spacewalk: মহাকাশে হাঁটতে চলেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারী অনিল মেনন, স্পেসওয়াকে অনিলের সঙ্গী ফরাসি মহিলার নজির