
ভেনেজুয়েলার পরে এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজর পড়েছে কিউবার উপরে। তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যা কিউবাতে তেল বিক্রি বা সরবরাহকারী দেশগুলির যে কোনও পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করবে। এই আদেশ আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে জারি করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে এই সিদ্ধান্তটি কেবল জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা মাথায় রেখেই নেওয়া হয়েছে। গতকাল হোয়াইট হাউসের জারি করা আদেশ অনুসারে, এমন দেশগুলির পণ্য আমদানির উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কিউবাতে তেল বিক্রি বা সরবরাহ করে।
ট্রাম্পের এই আদেশের পরেই চাপে পড়েছে মেক্সিকো। তারা কিউবাতে তেল সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। যদিও, মেক্সিকান প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম বলেছেন যে এই পদক্ষেপটি একটি সার্বভৌম সিদ্ধান্ত এবং মার্কিন চাপের ফলাফল নয়। এই স্থগিতাদেশ কিউবার জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে। ট্রাম্প কিউবান সরকারের থেকে নিজেকে দূরে রাখতে মেক্সিকোকে চাপ দিচ্ছেন।
আমেরিকার জন্য কিউবা কেন হুমকি?
ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগ করেছে যে আমেরিকার প্রতি শত্রুভাবাপন্ন দেশ হল কিউবা এবং তারা সহযোগিতা করছে। আদেশে চিন, রাশিয়া এবং ইরানের পাশাপাশি হামাস, হিজবুল্লার মতো সংগঠনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে কিউবা তাদের দেশ মার্কিন বিরোধী শক্তিগুলিকে সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে। এমনকী এতে বলা হয়েছে যে কিউবায় বৃহত্তম বিদেশি সংকেত গোয়েন্দা ঘাঁটি তৈরি করেছে রাশিয়া। এচাড়াও, চিনের সঙ্গে তাদের সামরিক অংশীদারিত্ব ক্রমশ বাড়ছে।
এই আদেশ কিউবার ইতিমধ্যেই ক্ষয়িষ্ণু অর্থনীতির উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। ১৯৫৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে কিউবা বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক সংঙ্কের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, খাদ্য ঘাটতি এবং পর্যটনের ক্রমহ্রাসমানতা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, মেক্সিকো সাময়িকভাবে কিউবায় তেল সরবরাহ স্থগিত করেছে, যদিও মেক্সিকান রাষ্ট্রপতি অস্বীকার করেছেন যে এটি মার্কিন চাপের কারণে হয়েছে। গত মাস পর্যন্ত, মেক্সিকো কিউবার মোট তেল আমদানির ৪৪%, ভেনেজুয়েলা ৩৩% এবং রাশিয়া প্রায় ১০% ছিল। তবে, ভেনেজুয়েলা থেকে সরবরাহ ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে কিউবা তীব্র জ্বালানি সঙ্কটে পড়েছে।