
ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমান ছিনতাইয়ের ব্যর্থ চেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত ওমানি সহ-পাইলট হামাম আল-হামামির প্রশংসা করল আল-কায়েদার ইয়েমেন শাখা। একইসঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিমান সংস্থাগুলিকে লক্ষ্য করে একই ধরনের হামলার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে খবর। আল-কায়েদার ইয়েমেন-ভিত্তিক শাখা (AQAP) তাদের সাপ্তাহিক প্রকাশনা ‘আল-বায়ান’-এ এই ঘটনার প্রসঙ্গে একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে। ‘১১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর’-শিরোনামের ওই লেখায় ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিমান হামলার ছবি এবং তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আমেরিকান ও ইজরায়েলি বিমান এখনও হামলার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পাশাপাশি ৩০ সেপ্টেম্বরের ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনার উল্লেখ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। আল-বায়ানের ওই সম্পাদকীয়তে আরও দাবি করা হয়েছে, ফ্লাইদুবাই বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারত। এমনকী অমুসলিম কোনও ব্যক্তির হাতেও আমেরিকা বা ইজরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা হতে পারে এবং সেটিকে মুসলিমদের স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
দুবাই থেকে তেল আভিভ যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানটি। বিমানে থাকা ওমানি সহ-পাইলট হামাম আল-হামামি ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছারের উপর হামলা করেন বলে অভিযোগ। হামলায় ককপিটে থাকা ক্র্যাশ অ্যাক্স ব্যবহার করা হয়েছিল। পরিস্থিতি সামলাতে কোনওভাবে ককপিটের দরজা খুলে দেন ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার এবং বিষয়টি বিমানের অন্য সদস্যদের জানান। এরপর যাত্রীরা সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার সময় বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার ফুট নীচে নেমে যায় বলে জানা গিয়েছে। পরে বিমানে থাকা অন্য এক জোড়া পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করান। ঘটনার পর হামাম আল-হামামিকে আটক করা হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্তে একাধিক দেশ যুক্ত রয়েছে। তবে আল-কায়েদা হামামির ওই হামলার পরিকল্পনা করেছিল বা সরাসরি এর সঙ্গে যুক্ত ছিল—এমন কোনও দাবি করেনি। বরং ঘটনার পর তাদের প্রকাশনায় হামলার প্রশংসা করা হয়েছে।