
মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি তারা তাদের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ না করে তবে সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হবে। ট্রাম্পের হুমকির মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে জোরাল প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছেন। আয়াতুল্লাহ আলি খামেইনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন যে, যদি আমেরিকা ইরানে আক্রমণ করে, তাহলে তা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক যুদ্ধের সূত্রপাত করবে। তাঁর বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন এবং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তাঁর বক্তব্যের ভিডিও সম্প্রচার করার আগে খামেইনির কথা অনলাইনে শেয়ার করেছে। খামেইনির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে যে আমেরিকানদের জানা উচিত যে তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে এবার তা সীমিত যুদ্ধ হবে না, বরং আঞ্চলিক যুদ্ধ হবে। তিনি বলেছেন যে আমরা সংঘাত শুরু করি না এবং কোনও দেশকে আক্রমণ করতে চাই না, তবে যদি ইরানি জাতিকে আক্রমণ করা হয় বা হয়রানি করা হয়, তাহলে তারা জোরালভাবে জবাব দেবে।
খামেইনির এই হুমকিকে আমেরিকার প্রতি এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে সরাসরি এবং কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে একটি বিশাল নৌবহর আরব সাগরে মোতায়েন করা হয়েছে। ট্রাম্প এই নৌবহরকে ভেনেজুয়েলায় পাঠানো নৌবহরের চেয়ে অনেক বড় বলে বর্ণনা করেছেন। তবে, ট্রাম্প আসলে সামরিক শক্তি ব্যবহার করবেন কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প বারবার বলেছেন যে ইরান আলোচনায় বসতে চায় এবং তেহরানের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচিকে তিনি একটি প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যা তিনি সমাধান করতে চান।
এদিকে, ইরান রবিবার এবং সোমবার কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা করেছে, যে সংকীর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল বাণিজ্য চলে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইতিমধ্যেই সতর্ক করে দিয়েছে যে এই মহড়ার সময় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ বা বিমানকে হুমকি দেওয়ার বা বাণিজ্যিক সামুদ্রিক যান চলাচল ব্যাহত করার যে কোনও প্রচেষ্টা সহ্য করা হবে না।
এদিকে, সরকার বিরোধী বিক্ষোভকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা একটি ‘অভ্যুত্থানের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্গ্র করে। পরে তা সরকারি ও ইসলামি শাসন বিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। যদিও ইরানের নেতারা এই আন্দোলনকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল কর্তৃক উস্কানি দেওয়া ‘দাঙ্গা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন খামেইনি বলেন, 'তারা (দাঙ্গাকারীরা) পুলিশ, সরকারি কেন্দ্র, আইআরজিসি কেন্দ্র, ব্যাঙ্ক এবং মসজিদে হামলা চালিয়েছে এবং কোরান পুড়িয়ে দিয়েছে। এটা একটা অভ্যুত্থানের মতোই ছিল। অভ্যুত্থানটি দমন করা হয়েছে। তেহরান বিক্ষোভের সময় ৩,০০০-এরও বেশি মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে। যদিও দাবি করেছে যে নিহতদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং নিরীহ পথচারী।