- Home
- World News
- International News
- Iran-US War: এবার ইরানের টার্গেট বাগদাদ! আত্মঘাতী ড্রোন হামলায় উড়ল মার্কিন দূতাবাসের রাডার সিস্টেম
Iran-US War: এবার ইরানের টার্গেট বাগদাদ! আত্মঘাতী ড্রোন হামলায় উড়ল মার্কিন দূতাবাসের রাডার সিস্টেম
Iran-US War: বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, একটি 'সুইসাইড ড্রোন' দিয়ে দূতাবাসের 'রাডার সিস্টেম' এবং মিসাইল দিয়ে 'হেলিপ্যাড' নিশানা করা হয়।

যুদ্ধের ১৫ দিন
ইরানের সঙ্গে আমেরিকা আর ইজরায়েলের সংঘাতে উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। যুদ্ধের আঁচ পড়তে শুরু করেছে ইরনের প্রতিবেশী দেশগুলিতেও। এবার ইরানের হামলা বাগদাদে।
আত্মঘাতী ড্রোন হামলা
বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে একটি 'সুইসাইড ড্রোন' দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি-র রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল দূতাবাসের 'রাডার সিস্টেম'।
আমেরিকার রাডার সিস্টেম টার্গেট ইরানের
'ইরাকি সূত্র'-এর কথা উল্লেখ করে ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, দূতাবাসের চত্বরে থাকা ইলেকট্রনিক ডিটেকশন যন্ত্রপাতির উপরেই বিশেষভাবে নজর ছিল হামলাকারীদের। শুধু ড্রোন হামলাই নয়, কড়া নিরাপত্তায় মোড়া ওই দূতাবাসে একটি মিসাইলও আছড়ে পড়ে। আল জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, মিসাইলটি দূতাবাসের 'হেলিপ্যাড'-এ আঘাত হানে।
ল্যান্ডিং এরিয়াতে হামলা
'ইরাকি আধিকারিকদের' মতে, মিসাইলটি সফলভাবে কম্পাউন্ডের ভেতরের 'ল্যান্ডিং এরিয়া'-তে হামলা চালায়, যা মার্কিন মিশনের উপর একটি বহুমুখী আক্রমণের ইঙ্গিত দেয়। এই হামলার পাশাপাশি তেহরানের তরফ থেকে কড়া কূটনৈতিক বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
ইরান পার্লামেন্টে যুদ্ধের আলোচনা
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের কার্যকলাপের মধ্যে ইসলামিক রিপাবলিক আর কোনও পার্থক্য করে না। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ মোহাম্মদ-বাকের কালিবাফ মন্তব্য করেন, "ট্রাম্পকে [ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন] নেতানিয়াহু বোকা বানিয়ে যুদ্ধ শুরু করিয়েছিলেন এবং এখন তিনি তার নিয়ন্ত্রণেই কাজ করছেন।" তেহরানের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট করে স্পিকার আরও বলেন, "তারা যে বড় অপরাধ করেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান এখন আমেরিকা এবং ইহুদি শাসনের মধ্যে 'কোনও পার্থক্য' করে না।"
হামলা অব্যাহত ইরানের
গালিবাফ এই মন্তব্য এমন সময় করেছেন যখন অঞ্চলে সংঘাত তীব্রতর হচ্ছে। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC) আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিভিন্ন ঘাঁটির বিরুদ্ধে তাদের "সাফল্যজনক এবং নির্ণায়ক প্রতিশোধমূলক হামলার" ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।
ভবিষ্যতে সামরিক সংঘাতের বিষয়ে স্পিকার কঠোর অবস্থান নিয়ে ঘোষণা করেছেন, "যতক্ষণ না শত্রুর হিসাব বদলাচ্ছে এবং তারা অনুতপ্ত হতে বাধ্য হচ্ছে, ততক্ষণ যুদ্ধ চলবে।"
ইরান আরও জোরদার হামলা চালাতে পারে!
এই রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে, IRGC তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযানের ৪৮তম পর্ব শুরু করার কথা নিশ্চিত করেছে। প্রেস টিভির রিপোর্ট অনুযায়ী, এই পর্বে বিভিন্ন ইজরায়েলি এবং আমেরিকান স্থাপনাকে নিশানা করা হয়েছে।
ট্রু প্রমিস ৪ শুরু
শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে IRGC জানায়, "ইজরায়েল এবং আমেরিকান লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে চলমান প্রতিশোধমূলক 'অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪'-এর ৪৮তম পর্ব সফলভাবে কার্যকর করা হয়েছে।" এই সর্বশেষ আক্রমণটি লেবাননের প্রতিরোধ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমন্বয় করে চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
আমেরিকার ঘাঁটিতে হামলা
সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অধিকৃত অঞ্চলের মধ্যে প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু ছিল উত্তর অংশে, বিশেষ করে "গ্যালিলি, গোলান এবং অধিকৃত হাইফা শহর"। এই এলাকাগুলো ছাড়াও, এই পর্যায়ে "অঞ্চলজুড়ে বেশ কয়েকটি আমেরিকান ঘাঁটি"-তেও হামলা চালানো হয়। প্রেস টিভির মতে, ৪৮তম পর্বে "সলিড-ফুয়েল খাইবার শেকান মিসাইল, লিকুইড-ফুয়েল কদর মিসাইল এবং অ্যাটাক ড্রোন"-এর মতো বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
শুক্রবারের হামলা
এর আগে শুক্রবার ৪৭তম পর্ব শেষ হয়েছিল, যেখানে "নেগেভ মরুভূমি, যার মধ্যে নেভাটিমও রয়েছে" (এই অঞ্চলে অন্যতম বৃহত্তম বিমানঘাঁটি), প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত "বে'র শেভা" এবং "লোড" শহরের মতো কৌশলগত স্থানগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, IRGC কাতারে অবস্থিত "আল-উদাইদ" ঘাঁটিতেও আঘাত হানার খবর দিয়েছে, যা "পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে আমেরিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি" হিসেবে পরিচিত। এই অভিযানে "ইরান-বিরোধী কোমালা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর গোপন আস্তানা"-তেও "সলিড-ফুয়েল খাইবার শেকান মিসাইল এবং লিকুইড-ফুয়েল কদর মিসাইল" ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়। IRGC হিব্রু ভাষায় টেক্সট মেসেজ পাঠাতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, "ঈশ্বরের অনুমতিতে, আমরা আপনাদের উপর এমন অন্ধকার দিন নিয়ে আসব, যেদিন আপনারা মৃত্যু চাইবেন, কিন্তু তা পাবেন না।"

