Dhaka Protest: ৮১ ফুটের রাম মূর্তি বানানোয় 'শাস্তি'? হিন্দু যুবককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে উত্তাল ঢাকা

Saborni Mitra   | ANI
Published : Jul 18, 2026, 04:51 PM IST
Bangladesh Minorities Protest Arrest of Hindu Man Building Ram Statue

সংক্ষিপ্ত

বাংলাদেশে এক হিন্দু যুবককে 'অর্থ পাচারের' ভুয়ো অভিযোগে গ্রেপ্তার করার প্রতিবাদে উত্তাল রাজধানী ঢাকা। গাইবান্ধায় ৮১ ফুটের রাম মূর্তি তৈরির উদ্যোগ নেওয়ায় হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস নামে ওই যুবককে টার্গেট করা হয়েছে বলে অভিযোগ সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির।

ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিশাল বিক্ষোভ দেখিয়েছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলি। হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস নামে এক হিন্দু যুবককে 'অর্থ পাচারের' মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার করার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ সংগঠিত হয়।

সংখ্যালঘু বিক্ষোভ ঢাকায়

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভে দেশের শীর্ষস্থানীয় সংখ্যালঘু নেতারা সামিল হন। তাঁদের অভিযোগ, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়িতে ৮১ ফুট উঁচু রামের মূর্তি তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কারণেই হরিদাসকে নিশানা করা হয়েছে।

ANI-এর সঙ্গে কথা বলার সময়, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মণীন্দ্র কুমার নাথ এই গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, "আজ বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসের গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভের আয়োজন করেছে। সরকার দুই-তিন দিন আগে হরিদাসকে গ্রেপ্তার করেছে। বলা হচ্ছে, তিনি পলাশবাড়িতে রামচন্দ্রের একটি মূর্তি তৈরি করছিলেন। এই কারণে তরনী দাসকে গ্রেপ্তার করাটা আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।"

২ বছরে ৩০০০ সংখ্যালঘু নির্যাতন

মণীন্দ্র নাথ আরও বলেন, গত দু'বছর ধরে দেশজুড়ে অমুসলিমদের ওপর যেভাবে একের পর এক হিংসা ও আইনি অত্যাচার চলছে, এটা তারই অংশ। তিনি যোগ করেন, "আপনারা জানেন, গত দু'বছর ধরে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের গ্রেপ্তার ও অত্যাচার চলছে। শুধু তাই নয়, গত বছর সারা দেশে প্রায় ৩,০০০ ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৬৬ জনকে খুন করা হয়েছে এবং মৌলবাদীরা বহু মন্দিরে হামলা চালিয়েছে। এটা একেবারেই অনভিপ্রেত। আমরা এটা মেনে নিতে পারি না।"

ধর্মীয় কাজে বাধা

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই বিতর্কিত গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় আদালত ওই হিন্দু যুবককে কারাগারে পাঠায়। এই ঘটনায় সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, ধর্মীয় নির্মাণকাজ বন্ধ করার জন্যই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অর্থ পাচারের মামলা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত মাসেই এই গাইবান্ধা জেলায় একটি ইসলামপন্থী বিক্ষোভের সময় ভগবান রামের ছবি অবমাননার অভিযোগে হিন্দু সংখ্যালঘুরা ব্যাপক প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

বিক্ষোভ মিছিল চলাকালীন, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের বর্ষীয়ান নেতা সুব্রত চৌধুরী অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, "একটা সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কারা এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে এই সরকারকে বিব্রত করতে চাইছে? আমরা সরকারকে আল্টিমেটাম দিতে চাই এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।"

মুক্তির দাবি

সুব্রত চৌধুরী অবিলম্বে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরের হস্তক্ষেপ দাবি করে কারাবন্দী হিন্দু যুবকের মুক্তি চেয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, সংখ্যালঘুদের ধর্মকে অপমানকারীদের বিরুদ্ধে যদি রাষ্ট্র ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে দেশজুড়ে ধর্মঘট ডাকা হবে। তিনি বলেন, "যারা আমার ধর্মকে অপমান করেছে, তাদের বিরুদ্ধে যদি অবিলম্বে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আমরা বাংলাদেশে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেব।"

স্থানীয় হিন্দু কর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশের এই আকস্মিক পদক্ষেপের পেছনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন চৌধুরী। তিনি বলেন, "অন্যদিকে, কার নির্দেশে, কার ইশারায় এবং কার হস্তক্ষেপে এমন একজন ভক্তকে গ্রেপ্তার করা হলো? আমরা চাই সরকার তাদের মুখোশ খুলে দিক। আমি আশা করি, তারা যত বড় প্রশাসনিক কর্মকর্তাই হোক না কেন, আপনি তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।"

ঐক্য পরিষদের নেতারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সংখ্যালঘুরা তাদের ধর্মীয় অধিকার দমনের জন্য রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের এই ব্যবহার আর সহ্য করবে না। চৌধুরী বলেন, "যাকে জেলে পোরা হয়েছে, তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। যদি তাকে মুক্তি না দেওয়া হয়, তাহলে আগামী দিনে বাংলাদেশের সনাতন (হিন্দু) সম্প্রদায়, বৌদ্ধ সম্প্রদায় এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায় রাস্তায় নেমে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলবে।"

ক্রমবর্ধমান এই অত্যাচার কূটনৈতিক স্তরেও আলোড়ন ফেলেছে। গত ২৩ জুন ভারত কঠোরভাবে বাংলাদেশকে মৌলবাদী ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে নিষ্পত্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করে। নয়াদিল্লিতে একটি মিডিয়া ব্রিফিংয়ের সময়, ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং প্রতীকগুলিকে নিশানা করার ঘটনায় নয়াদিল্লির গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জয়সওয়াল বলেছিলেন, "আমরা বাংলাদেশ থেকে হিন্দু দেব-দেবী এবং তাঁদের ছবি অবমাননার খবর দেখেছি, যা বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। আমরা আশা করি, বাংলাদেশ সরকার সেখানকার চরমপন্থীদের দমন করবে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।"

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Ukraine Drone Strike: রাশিয়ার বৃহত্তম ই-কমার্স সংস্থার গুদামে ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলা, হত ৭
Prisoner Exchange: ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দিল ইরান, মার্কিন নাগরিকের মুক্তি নিয়ে বাড়ছে ধোঁয়াশা