
Pakistan-based Terrorists in Bangladesh: বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তন হলেও, দেশের অবস্থার কোনও বদল হয়নি। বরং যত দিন যাচ্ছে ততই পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিদের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হচ্ছে বাংলাদেশ। গত বছর বাংলাদেশের বঙ্গভূমি আন্দোলনের এক নেতা এশিয়ানেট নিউজ বাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, 'বাংলাদেশের ৬৪ জেলাতেই ঘাঁটি গেড়েছে পাকিস্তানের আইএসআই (Pakistan's Inter-Services Intelligence)। সারা বাংলাদেশে মৌলবাদী, জঙ্গি সংগঠনগুলি সক্রিয়। জামাতের ৫১ সংগঠন সক্রিয় হয়েছে।' সেই দাবি যে মিথ্যা নয়, তা প্রমাণিত হচ্ছে। বাংলাদেশে পাকিস্তানের সক্রিয় সাহায্যপ্রাপ্ত জঙ্গি ও কট্টরপন্থী ইসলামপন্থী সংগঠনগুলির প্রভাব ক্রমশঃ বাড়ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সংলগ্ন অঞ্চলে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি ও মৌলবাদীদের প্রভাব বাড়ছে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ-সহ উত্তর-পূর্ব ভারত এবং সারা দেশেরই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
পাকিস্তান বরাবরই জঙ্গিদের নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু মহম্মদ ইউনূস (Muhammad Yunus) বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালীন পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন করে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক শুরু হয়। এরই সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে পাকিস্তানের আইএসআই। পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তানের পাশাপাশি এখন জঙ্গি সংগঠনগুলির নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হচ্ছে বাংলাদেশ। ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এবং পরবর্তী সময়ে ইসলামপন্থী ও জঙ্গি সংগঠনগুলির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে, জিহাদিরা ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) ক্ষমতা হারানোর পর অনেক কুখ্যাত অপরাধী, জঙ্গি নেতাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। এই জঙ্গি নেতারা ফের সক্রিয় হয়েছে। পাকিস্তানের সামরিকবাহিনীর একাধিক জঙ্গি সংগঠন পরিচালনা করছেন বলে জানা গিয়েছে। চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে লস্কর-ই-তইবার (Lashkar-e-Taiba) প্রশিক্ষণ শিবির গড়ে উঠেছে বলেও শোনা যাচ্ছে। চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের সঙ্গে ত্রিপুরা (Tripura) ও মিজোরামের (Mizoram) সীমান্ত আছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বন্দর বঙ্গোপসাগরে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে, এই অঞ্চলে জঙ্গি কার্যকলাপ বাড়লে তার প্রভাব ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক কৌশলগত স্বার্থের উপরও পড়তে পারে। এই কারণে উদ্বেগ বাড়ছে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।