
Bashar al-Assad death sentence: দু'দশকেরও বেশি সময় ধরে স্বৈরশাসনের মাধ্যমে সিরিয়া (Syria) শাসন করা প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিল দামাস্কাসের একটি ফৌজদারি আদালত। সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলাকালীন যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় আসা সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের আমলে প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এটাই প্রথম মৃত্যুদণ্ডের রায়। আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই প্রাক্তন শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা শুরু হয়েছে। ইসলামপন্থী বিদ্রোহীরা দামাস্কাসের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসার পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পরিবারকে নিয়ে রাশিয়ায় পালিয়ে যান আসাদ। এর মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় তাঁর ২৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। মস্কো তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে আশ্রয় দেয়। আসাদের পাশাপাশি তাঁর খুড়তুতো ভাই এবং দক্ষিণ সিরিয়ার দেরা প্রদেশের প্রাক্তন পলিটিক্যাল সিকিউরিটি ডিরেক্টরেটের প্রধান আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। নাজিব আদালতে সশরীরে হাজির ছিলেন এবং পূর্বপরিকল্পিত হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
২০০০ সালে বাবা হাফেজ আল-আসাদের মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন বাশার আল-আসাদ। তাঁর বাবা প্রায় তিন দশক সিরিয়া শাসন করেছিলেন। ২০১১ সালে দেরা শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন করতে নিরাপত্তাবাহিনী ব্যাপক হিংসা চালানোর পরই সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়। পরবর্তীকালে সেই বিদ্রোহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারি বাহিনী, বিভিন্ন সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও বিদেশি শক্তির মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে পরিণত হয়। কয়েক বছরের সংঘাতে লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু এবং কোটি কোটি মানুষ গৃহহীন হন। গৃহযুদ্ধ চলাকালীন আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে বিচার-বহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, জোর করে নিখোঁজ করে দেওয়া, বিনা বিচারে আটক এবং অসামরিক অঞ্চলে হামলা চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে। রাষ্ট্রপুঞ্জের তদন্তকারী দল এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে। একইসঙ্গে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং সংঘাতে জড়িত অন্যান্য পক্ষের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন ধরনের লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে আসে।
সিরিয়ায় আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারেরও অভিযোগ ওঠে। রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থা (OPCW) এবং রাষ্ট্রপুঞ্জ-সমর্থিত বিভিন্ন তদন্তে সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক রাসায়নিক হামলার দায় আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ২০১৩ সালের অগাস্টে দামাস্কাসের কাছে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত পূর্ব ঘৌতায় সারিন গ্যাস হামলা। ওই রাসায়নিক হামলার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আসাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়েছিল। আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে আটক ও নির্যাতনের একটি ব্যবস্থা পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। আন্তর্জাতিক তদন্তে হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের উপর নির্যাতন এবং মৃত্যুর একাধিক ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। আসাদ সরকারের অধীনে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সিরিয়ার প্রাক্তন নিরাপত্তা আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মামলা ও বিচারপ্রক্রিয়া হয়েছে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।