
US Bangladesh Secret Deal: ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির পর, দক্ষিণ এশিয়ায় আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটছে। ভারতের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তির দিকে পদক্ষেপ নিয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বাংলাদেশ ৯ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গোপন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করতে চলেছে এবং এই অগ্রগতি সেখানে সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে। ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রায় এক সপ্তাহ পরে এই চুক্তির সময়, বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এবং নীতি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
এই প্রস্তাবিত চুক্তি সম্পর্কে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হল এর স্বচ্ছতা এবং সময়সীমা। বাংলাদেশী গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তির শর্তাবলী জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না এবং এর খসড়া সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক প্রথম আলোর মতে, সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এত বড় এবং সুদূরপ্রসারী চুক্তি স্বাক্ষর একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। যদি ৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়, তাহলে এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমাপ্তি এবং ১৩তম সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের ঠিক আগে একটি সিদ্ধান্ত হবে।
শিল্পক্ষেত্রেও উদ্বেগ বেড়েছে কারণ, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির পর, ভারতের উপর আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে যে ভারত-মার্কিন চুক্তির বিস্তারিত তথ্য শীঘ্রই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির বিস্তারিত তথ্য আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র ১৮ শতাংশ শুল্ক বাস্তবায়নের জন্য একটি নির্বাহী আদেশও জারি করতে পারে। বিপরীতে, বাংলাদেশ-মার্কিন চুক্তি ঘিরে সম্পূর্ণ গোপনীয়তা উদ্বেগকে আরও গভীর করেছে।
বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সংগঠনগুলি আশঙ্কা করছে যে এই চুক্তি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সিনিয়র সহ-সভাপতি এনামুল হক খান এই চুক্তির সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের এত বড় এবং দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করা উচিত ছিল। তিনি বিশ্বাস করেন যে একটি অস্থায়ী সরকারের এই ধরনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের সরকার এবং শিল্প উভয়ের জন্যই অসুবিধা তৈরি করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির পর বাংলাদেশের এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক বাণিজ্য ভারসাম্যের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। তবে, নির্বাচনের ঠিক আগে এবং জনসাধারণের তথ্য ছাড়াই যেভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে, তাতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় স্তরেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা বেড়েছে। আগামী দিনে এই গোপন চুক্তির শর্তাবলী কী এবং এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও শিল্পের উপর কতটা গভীর প্রভাব ফেলে তা দেখা গুরুত্বপূর্ণ।