ওয়াশিংটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সেনা ঘাঁটির ওপর দিয়ে উড়ে গেল বেশ কয়েকটি রহস্যময় ড্রোন। এই ঘাঁটিতেই থাকেন সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও এবং ডিফেন্স সেক্রেটারি পিট হ্যাগসেথের মতো শীর্ষ কর্মকর্তারা। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে।
ওয়াশিংটনে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কয়েকটি রহস্যময় ড্রোনকে ঘিরে। সম্প্রতি ফোর্ট লেসলি জে. ম্যাকনেয়ার নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সেনা ঘাঁটির আকাশে এই ড্রোনগুলো উড়তে দেখা যায়। এই ঘাঁটিতেই থাকেন দেশের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা, যার মধ্যে রয়েছেন সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও এবং ডিফেন্স সেক্রেটারি পিট হ্যাগসেথ। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ১০ দিনের মধ্যে এক রাতে একাধিক ড্রোন দেখা যায়। এই ঘটনার পরেই হোয়াইট হাউসে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয় এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি পর্যালোচনার জন্য জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালাচ্ছে। প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কায় মার্কিন সেনা নজরদারি এবং প্রস্তুতি অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।
রুবিও এবং হ্যাগসেথকে সরানোর ভাবনা
এই ড্রোন-কাণ্ডে এতটাই আতঙ্ক ছড়িয়েছে যে, রুবিও এবং হ্যাগসেথকে ওই ঘাঁটি থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। যদিও আপাতত তাঁরা সেখানেই থাকছেন। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল বলেছেন, “নিরাপত্তার কারণে সেক্রেটারির গতিবিধি নিয়ে দপ্তর কোনও মন্তব্য করতে পারে না। এই ধরনের খবর ছাপানোও চূড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।”
ক্রমবর্ধমান আশঙ্কার মধ্যে আমেরিকা বিশ্বজুড়ে তাদের দূতাবাসগুলোর জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। পাশাপাশি, দেশের একাধিক সেনা ঘাঁটিতেও সুরক্ষা বাড়ানো হয়েছে। জয়েন্ট বেস ম্যাকগ্যায়ার-ডিক্স-লেকহার্স্ট এবং ম্যাকডিল এয়ার ফোর্স বেসের মতো ঘাঁটিগুলিতে নিরাপত্তা বাড়িয়ে 'চার্লি' স্তরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর মানে হল, হামলার বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।
ম্যাকডিল ঘাঁটিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এই ঘাঁটি থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ড। চলতি সপ্তাহে সেখানে একটি সন্দেহজনক প্যাকেজ ঘিরে এফবিআই তদন্ত শুরু করে। এছাড়া, অন্য একটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনার জেরে দীর্ঘক্ষণ 'শেল্টার-ইন-প্লেস' অর্থাৎ নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ জারি করা হয়।
এয়ার ফোর্সের এক মুখপাত্র বলেন, “আমাদের কর্মী এবং মিশনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কমান্ডাররা স্থানীয় ঝুঁকির মূল্যায়ন অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক করেন।”
এদিকে, স্টেট ডিপার্টমেন্ট বিশ্বের সমস্ত মার্কিন দূতাবাসকে 'অবিলম্বে' তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করার নির্দেশ দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং তার সম্ভাব্য প্রভাবের কারণেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফোর্ট লেসলি জে. ম্যাকনেয়ার ঘাঁটিটি হোয়াইট হাউস এবং ক্যাপিটল হিলের খুব কাছে হলেও, অন্যান্য ঘাঁটির তুলনায় এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ততটা মজবুত নয়। এই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিরাপত্তার কারণে প্রাক্তন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমের মতো শীর্ষ কর্মকর্তারাও এই ঘাঁটিতে থাকতেন।
এই ড্রোনের ঘটনাটি একটি বৃহত্তর চিত্রের অংশ। ২০২০ সালে মার্কিন হামলায় ইরানের জেনারেল কাসেম সোলেমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই মার্কিন কর্মকর্তারা আকাশপথে হামলার বিষয়ে সতর্ক করে আসছেন।
এর আগেও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো একই ধরনের ড্রোনের ঘটনার সম্মুখীন হয়েছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় জনসভা এবং মোটরকেডের খুব কাছ থেকে ড্রোন উড়তে দেখা গিয়েছিল। কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে যুক্ত গুপ্তহত্যার হুমকি সম্পর্কেও সতর্ক করেছিলেন, যদিও তেহরান সরাসরি কোনও হামলার চেষ্টা করেছিল বলে প্রমাণ মেলেনি।
ইরান প্রাক্তন সেক্রেটারি অফ স্টেট মাইক পম্পেও এবং প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনকেও নিশানা করেছিল। এর জেরে বাইডেন প্রশাসন তাঁদের নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেয়, যা পরে ২০২৫ সালে তুলে নেওয়া হয়।


