Israel Election: আরবদের আটকাতে নেতানিয়াহুর নতুন চাল, ইহুদি-আরব জোট কি ভাঙবে?

Published : Nov 05, 2026, 12:13 PM IST
Benjamin Netanyahu

সংক্ষিপ্ত

ইজরায়েলের নির্বাচনে কোনও দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এই অবস্থায় নেতানিয়াহুর জোট গড়ার সম্ভাবনা, আরব দলগুলোর উত্থান এবং কট্টরপন্থীদের অবস্থানই নতুন সরকার গঠনের চাবিকাঠি হতে চলেছে।

ইজরায়েলের ইতিহাসে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বর্তমান সরকারই সবচেয়ে বেশি ডানপন্থী। তাঁর লিকুদ (Likud) পার্টির জোটে কট্টর রক্ষণশীল এবং অতি-জাতীয়তাবাদীরা রয়েছেন। এর আগে আরব দলগুলো সরকারের অংশ হলেও, এখন নেতানিয়াহু তাদের সঙ্গে জোট করলে তাঁর নিজের জোটের কট্টরপন্থীরা বেরিয়ে যেতে পারে। অনেক রকম সম্ভাবনার কথাই শোনা যাচ্ছে, তবে শেষ পর্যন্ত কী হয় সেটাই দেখার।

ভোটের নিয়মে কারও একার সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই

ইজরায়েলের ভোট দেওয়ার নিয়মটা একটু আলাদা। দেশটাকে জেলা বা প্রদেশে ভাগ না করে, পুরো দেশটাকেই একটা মাত্র কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়। মানুষ কোনও নির্দিষ্ট প্রার্থীকে নয়, বরং একটা দলের হয়ে একটাই ব্যালটে ভোট দেন। জাতীয় স্তরে দলগুলো যে পরিমাণ ভোট পায়, সেই অনুপাতে পার্লামেন্টের আসন ভাগ করে দেওয়া হয়। নেসেটে (Knesset) আসন পেতে গেলে একটা দলকে জাতীয় স্তরে অন্তত ৩.২৫ শতাংশ ভোট পেতেই হবে, যার মানে অন্তত চারটে আসন। এর চেয়ে কম পেলে পার্লামেন্টে কোনও জায়গাই মিলবে না।

দেশের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনও দলই একার জোরে সরকার গড়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তাই সবসময় জোট সরকারই তৈরি হয়েছে। নেতানিয়াহুর বর্তমান জোটে রয়েছে তাঁর নিজের ডানপন্থী দল লিকুদ, অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের (Bezalel Smotrich) জায়োনিস্ট পার্টি (Zionist Party - HaTzionut HaDatit) এবং নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের (Itamar Ben Gvir) ওতজমা ইয়েহুদিত (Otzma Yehudit)।

নির্বাচনের ফল প্রথমে প্রেসিডেন্টকে অনুমোদন করতে হয়। এরপর তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে নয়, বরং পার্লামেন্টে যার সবচেয়ে বেশি সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাঁকেই সরকার গড়তে ডাকেন। ২৮ দিনের মধ্যে সরকার গড়তে হয়, তবে প্রেসিডেন্ট চাইলে আরও ১৪ দিন সময় দিতে পারেন। তাতেও কাজ না হলে অন্য কোনও নেতা সুযোগ পান। সেটাও ব্যর্থ হলে আবার নতুন করে নির্বাচন হয়।

টিকে থাকাই আসল কথা

সংখ্যাগরিষ্ঠতা কমলেও নেসেটে সবচেয়ে বড় জোটের তকমাটা নেতানিয়াহুই ধরে রেখেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে একটা অদ্ভুত ব্যাপার বলেই মনে করছেন। নেতানিয়াহুর আসল লক্ষ্য ছিল 'জেতার চেয়ে টিকে থাকা'। হামাসের হামলা এবং তার জেরে গাজায় আক্রমণের শুরুতে মানুষ সমর্থন করলেও, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় এবং ইজরায়েলি সেনাদের মৃত্যুর কারণে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। পণবন্দিদের ছাড়িয়ে আনার আলোচনায় নেতানিয়াহু ব্যর্থ হয়েছেন বলেও জনতা অভিযোগ তোলে। তাদের মুক্তির চেয়ে হামাসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বলে দাবি ওঠে। গাজা অভিযান শেষ হওয়ার আগেই নেতানিয়াহু ইরানে হামলা চালান। পেজার বিস্ফোরণের সময় পর্যন্ত হিজবুল্লাহ এবং ইরানও ইজরায়েলে আক্রমণ চালিয়েছে।

পাল্টা হামলায় ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, ইজরায়েল তা প্রকাশ্যে আনেনি বলেই খবর। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এখন গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধ থামানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা ডোনাল্ড ট্রাম্পও এখন শেষ না হওয়া যুদ্ধেরই সূচনা করেছেন, আর এর পেছনে ইজরায়েলের প্ররোচনা রয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। এত কিছুর মধ্যেও নির্বাচনে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়ার হাত থেকে বেঁচে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে আসাই নেতানিয়াহুর বড় জয়। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী গাডি আইজেনকোটও (Gadi Eisenkot) সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় পরিস্থিতি নেতানিয়াহুর অনুকূলেই যেতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

শক্তি দেখাচ্ছেন আরব বংশোদ্ভূতরা

তবে আরব দলগুলো এর আগে কখনও এত আসন পায়নি। ইজরায়েলের নাগরিকত্ব পাওয়া প্যালেস্তিনীয় বংশোদ্ভূতরাই হলেন আরব ইজরায়েলি। ১৯টি আসন জিতে এখন ক্ষমতার চাবিকাঠি অনেকটাই তাদের হাতে। তারা ঐক্যমত্যের সরকারের অংশ হতেই পারে, কিন্তু কে তাদের জোটে নেবে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। আগেরবার এই পরীক্ষা ব্যর্থ হয়েছিল।

চাপ বাড়ানোর অন্যান্য সম্ভাবনা

আরও দুজন নেতা এই পরিস্থিতিতে বড় ভূমিকা নিতে পারেন—প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগডর লিবারম্যান (Avigdor Lieberman) এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট (Naftali Bennett)। দুজনেই একসময় নেতানিয়াহুর উপদেষ্টা ছিলেন এবং তাঁদের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনাও অনেকটা এক। কিন্তু এখন দুজনেই নেতানিয়াহুর ওপর বিরক্ত। ক্ষমতা ধরে রাখতে তিনি যে কোনও কিছু করতে পারেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। লিবারম্যান ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে ইহুদি বসতি স্থাপনের কট্টর সমর্থক। বেনেট এর আগে বিরোধীদের সমর্থন নিয়েই প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। এখন বেনেটের ইয়ামিনা (Yamina) পার্টি ইয়াইর লাপিদের (Yair Lapid) জোটসঙ্গী। বেনেট এবং লিবারম্যান দুজনেই কট্টর রক্ষণশীল হলেও, কট্টরপন্থীদের দেওয়া কিছু বিশেষ সুবিধার ঘোর বিরোধী তাঁরা।

কট্টর রক্ষণশীলদের ভূমিকা

কট্টর রক্ষণশীলরা দেশের জনসংখ্যার মাত্র ১৪ শতাংশ হলেও, নেতানিয়াহুর কাছে তাদের ভোটব্যাঙ্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের খুশি করতে গিয়ে দেওয়া অনেক সুবিধাই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা থেকে তাদের ছাড় দেওয়াটা গাজা যুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল।

যারা দূরে সরে আছেন

লিবারম্যান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি এবার বিরোধী বা নেতানিয়াহু—কারও সঙ্গেই থাকবেন না। তিনি নাকি দুই পক্ষের কারও ফোন ধরতেও রাজি নন। এই অবস্থায় একটা ঐক্যমত্যের সরকার গড়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। তবে সেই সরকারে কারা থাকবেন, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাডি আইজেনকোটের পরবর্তী পদক্ষেপও এক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Govt Flat: সরকারি কর্মচারীদের থাকার জন্য তৈরি হবে ১৮৪টি ফ্ল্যাট, ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ
DJT Stock Crash: ব্যাকফুটে রিপাবলিকানরা যেতেই ডিজেটি শেয়ারে ধস, ১৬৮ মিলিয়ন ডলার খোয়ালেন ট্রাম্প