
BNP Government: ২০২৪ সালে ছাত্র-আন্দোলনের জেরে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়। সেই ঘটনার দু'বছর পূর্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি-র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ আশিম বুধবার বলেন, ‘’প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে হওয়া গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের মনে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।''
ANI-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আশিম বলেন, হাসিনার পতনের পেছনে যে আন্দোলন ছিল, তা শুধু ছাত্রদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং এটি ছিল সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি ব্যাপক গণ-আন্দোলন। আশিম বলেন, "২০২৪ সালের জুলাই মাসে যে পতন ঘটেছিল, তা সম্ভব হয়েছিল সমস্ত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, ছাত্রছাত্রী এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের নেতৃত্বে হওয়া এক গণঅভ্যুত্থানের কারণে। তারা সবাই এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।"
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের সেই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ জুড়ে একাধিক রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ব্যাপক ছাত্র-আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন, যা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড়সড় বদল আনে।
তাঁর পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন মুহাম্মদ ইউনুস। এরপর এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন।
বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজউদ্দিন আহমেদের। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই অভ্যুত্থানের স্মরণে একটি জাদুঘরেরও উদ্বোধন করবেন। সকাল থেকেই ঢাকার শাহবাগ মোড়ে 'জুলাই স্মৃতিসৌধে' ফুলের মালা দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। দেশজুড়ে বিভিন্ন স্মরণসভা আয়োজন করা হয়েছে এবং সরকার এই দিনটিকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেছে।
আশিম ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ঘটনাকে কোনও একটি বিশেষ ঘটনার ফল হিসেবে দেখতে নারাজ। তাঁর মতে, এটি ছিল বহু বছরের জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, "২০২৪ সালের জুলাইয়ের অভ্যুত্থান একদিনে বা কোনও একটি ঘটনার ফলে হয়নি। এটি ছিল পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী শাসনের ফসল, যারা প্রায় ১৭ বছর ধরে দেশটাকে আসলে দুঃশাসন করেছে।"
হাসিনার নেতৃত্বাধীন আগের সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা তুলে ধরে আশিম বলেন, "পাপ, অত্যাচার, গণহত্যা, দুর্নীতি, ব্যাংক লুট, এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংক কেলেঙ্কারি, রাজনৈতিক হত্যা, গুম—এরকম অনেক ইস্যু ছিল।"
তিনি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আটক থাকা এবং ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মতো আগের ছাত্র বিক্ষোভের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই সব ঘটনাই ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পরিস্থিতি তৈরিতে সাহায্য করেছিল। আশিম বলেন, "আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বহু বছর ধরে আটক করে রাখা হয়েছিল। এরকম অনেক কিছু একসঙ্গে ঘটেছিল। ২০১৮ সালে কোটা নিয়ে একটি ছাত্র আন্দোলন হয়েছিল। এরপর ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তা আবার জ্বলে ওঠে।"
বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সামনের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে আশিম বলেন, বছরের পর বছর ধরে চলা কথিত দুঃশাসনের পর দেশ পুনর্গঠনে সময় লাগবে। তিনি বলেন, "একটা বিখ্যাত কথা আছে, 'রোম একদিনে তৈরি হয়নি'। তাই এই দেশ, বাংলাদেশ, যে পরিমাণ ষড়যন্ত্রমূলক কাজের শিকার হয়েছে, তা একদিনে নির্মূল করা সম্ভব নয়। আমাদের নেতা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতির কাছে বিএনপির দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য সেরাটা চেষ্টা করছেন।"
আশিম বলেন, অভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গেছে। দেশের প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি আরও বলেন, "প্রত্যাশা অনেক বেশি; এতে সময় লাগবে। বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে, তখন দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা, অর্থনীতি যা পেয়েছে, তা পুরোপুরি ভেঙে পড়া অবস্থায় ছিল। এখন সবকিছু নতুন করে গড়তে হচ্ছে। তাই সরকারের পক্ষে অল্প সময়ে সবকিছু পূরণ করাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের সময় দরকার, এবং সরকারকে যথেষ্ট সময় দিতে হবে।"