
পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার একজন শীর্ষ কমান্ডারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ভিডিওটিতে জঙ্গি রিজওয়ান হানিফকে ক্যামেরার সামনে স্বীকার করতে দেখা যায় যে, গত তিন থেকে চার বছরে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে তার প্রায় ৩০ জন জঙ্গিকে নির্মূল করা হয়েছে।
ভিডিওটিতে জঙ্গি রিজওয়ান হানিফ দাবি করেছেন যে, অজ্ঞাত হামলাকারীরা পাকিস্তানের বিভিন্ন অংশ এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে বেছে বেছে লস্করের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্মূল করেছে। যেসব এলাকায় এই ঘটনাগুলো ঘটেছে তার মধ্যে পেশোয়ার, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি, মুজাফফারাবাদ এবং রাওয়ালকোটের মতো প্রধান শহর ও ঘাঁটিগুলো অন্তর্ভুক্ত। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ভিডিওটি পরীক্ষা করে এর সত্যতা যাচাই করেছে। এনডিটিভির মতে, সংস্থাগুলো বলছে যে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিটি কোনো সাধারণ সদস্য নন, বরং লস্কর-ই-তৈবার একজন শীর্ষ জঙ্গি, যিনি ভারতেও পলাতক।
এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশের পর, জঙ্গি রিজওয়ান ভারতীয় সংস্থাগুলোকে দোষারোপ করার চেষ্টা করেছে। তবে, ভারত এই ভিত্তিহীন অভিযোগগুলো সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই পুরো বিষয়টির আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো, ভিডিওটিতে রিজওয়ান হানিফকে হিন্দুধর্মের বিরুদ্ধে অত্যন্ত বিদ্বেষপূর্ণ ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করতে শোনা যায়। এটি আবারও প্রমাণ করে যে, পাকিস্তানে বিস্তার লাভ করা জঙ্গি সংগঠনগুলো কীভাবে ধর্মের নামে বিষ ছড়ায় এবং সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে উস্কানি দিয়ে তাদেরকে চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের চুল্লিতে ঠেলে দেয়।
The fear is real.
Terror outfits that once spread hate are now facing the heat in their own backyard.
Lashkar-e-Taiba’s admission of losing 30+ operatives in the last few years speaks volumes.
The cracks are visible.#LashkarETaiba pic.twitter.com/PvgV2McWjX— Fearless Voice of Pakistan (@VoiceofPak0786) August 3, 2026
এই ভিডিওটি আন্তর্জাতিকভাবে পাকিস্তানের দ্বৈত নীতিকে উন্মোচন করে। আল-কায়েদা এবং তালেবানের সাথে সম্পর্কের কারণে ২০০৫ সালেই লস্করকে বিশ্বব্যাপী নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তবুও এর শীর্ষ কমান্ডাররা শুধু পাকিস্তানে অবাধে ঘুরে বেড়ায় তাই নয়, সেখানে তাদের ক্যাডারদের একটি নেটওয়ার্কও বজায় রাখে। অজ্ঞাত হামলাকারীদের ভয় লস্করের শীর্ষ কমান্ডারদের মধ্যেকার উদ্বেগকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। এই ভিডিওতে ধারণ করা জঙ্গিদের স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে, পাকিস্তানের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে লুকিয়ে থাকা এই জঙ্গিরা এখন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।