সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধে সৌদি আরামকোর একটি তেল পরিশোধন কেন্দ্রের কাছে আগুন এবং ঘন কালো ধোঁয়া দেখা গেল। শনিবার এই ঘটনার পর ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে ওই তেলকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধে সৌদি আরামকোর একটি তেল পরিশোধন কেন্দ্রের কাছে আগুন এবং ঘন কালো ধোঁয়া দেখা গেল। শনিবার এই ঘটনার পর ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে ওই তেল কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ছবি ও ভিডিওতে আগুনের শিখা এবং আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। Reuters-এর এক প্রত্যক্ষদর্শীও আরামকোর ওই কেন্দ্রের কাছে বড় আকারের আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। AFP-এর এক সাংবাদিক ঘটনাস্থলে একাধিক দমকলের গাড়িকে আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে দেখেছেন। পাশাপাশি সেখানে অ্যাম্বুল্যান্স এবং পুলিশের গাড়িও মোতায়েন ছিল।
হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, রিয়াধের একটি তেল কেন্দ্র্কে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, হামলার পর লক্ষ্যবস্তুতে আগুন ধরে যায়। তবে এই হামলার দাবি এখনও সৌদি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি। সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। সৌদি আরামকোর তরফেও ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে আগুনের সঠিক কারণ এবং হামলায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
কেন হামলা চালানোর দাবি হুথিদের?
হুথিদের দাবি, সম্প্রতি ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ বিভিন্ন এলাকায় সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিমান হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। হুথি-সমর্থিত আল-মাসিরাহ টিভির দাবি, সানায় সৌদি বিমান হামলায় একাধিক জায়গায় আঘাত হানা হয়েছে। এর পরই সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিকাঠামোকে নিশানা করার দাবি করল হুথিরা। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরব এবং হুথিদের মধ্যে সংঘর্ষ ফের তীব্র হয়েছে। এর আগে ইয়ানবুতেও আরামকোর স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছিল হুথিরা। এই পরিস্থিতিতে রিয়াধের আরামকো স্থাপনার কাছে আগুনের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সৌদি আরবের পাল্টা দাবি
তবে হুথিদের এই দাবিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে মন্তব্য করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি। অন্যদিকে, সৌদি কর্তৃপক্ষ বা আরামকোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের কারণ বা কোনও হামলার বিষয়ে বিস্তারিত নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে রিয়াধের আরামকো জ্বালানি কেন্দ্রে আগুনটি সরাসরি হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার ফল কি না, তা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তবে এই ঘটনার জেরে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা আরও বাড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে।
