‘আমাদের হাতে বিশেষ কোনও বিকল্প ছিল না’ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া নিয়ে মুখ খুললেন দীনেশ

Published : Oct 04, 2026, 09:41 AM IST
Dinesh Trivedi said India had hardly any choice but to allow Sheikh Hasina aircraft to land in August 2024

সংক্ষিপ্ত

২০২৪ সালের অগাস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া নিয়ে মুখ খুললেন বাংলাদেশের নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তাঁর দাবি, সেই সময় শেখ হাসিনার হেলিকপ্টার ভারতে অবতরণের অনুমতি চাওয়ার পর তাঁকে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া ভারতের হাতে কার্যত কোনও বিকল্প ছিল না।

২০২৪ সালের অগাস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া নিয়ে মুখ খুললেন বাংলাদেশের নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তাঁর দাবি, সেই সময় শেখ হাসিনার হেলিকপ্টার ভারতে অবতরণের অনুমতি চাওয়ার পর তাঁকে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া ভারতের হাতে কার্যত কোনও বিকল্প ছিল না। প্রতিবেশী হিসেবে সেটাই ভারতের দায়িত্ব ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বে অফ বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এ বক্তব্য রাখার সময় দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, শেখ হাসিনা ভারতীয় বায়ুসেনা বা সেনাবাহিনীর বিমানে করে ভারতে আসেননি। তাঁর হেলিকপ্টার আগে থেকে কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই ভারতে অবতরণের অনুমতি চেয়েছিল। ত্রিবেদীর কথায়, “সেই পরিস্থিতিতে আমাদের হাতে বিশেষ কোনও বিকল্প ছিল না। প্রতিবেশী হিসেবে বাস্তবতাকে মেনে নেওয়াই আমাদের দায়িত্ব ছিল। কারণ অনেক সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার জন্য আগে থেকে প্রস্তুত থাকা সম্ভব হয় না।”

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে কী বলল ভারত?

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছে ঢাকা। এই প্রসঙ্গে ত্রিবেদী জানিয়েছেন, প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া চলছে। তবে এই বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বিষয়টি আদালতের সঙ্গে যুক্ত। তাই কখন এই প্রক্রিয়া শেষ হবে, তার কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা কারও পক্ষে বলা সম্ভব নয়। ২০২৪ সালের অগাস্টে বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকেই ভারতে রয়েছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাঁর প্রত্যর্পণের জন্য কূটনৈতিক নোটও পাঠানো হয়েছে। ভারত জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই বিষয়টি পরীক্ষা করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?

২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের একটি আদালত শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয়। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় হিংসাত্মক দমন-পীড়নের ঘটনায় তাঁকে দায়ী করা হয়। তবে শেখ হাসিনা অভিযোগগুলি অস্বীকার করেছেন এবং পুরো বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। এদিকে বাংলাদেশে আওয়ামী লিগের রাজনৈতিক কার্যকলাপের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দলটিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অনুমতিও দেওয়া হয়নি।

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়েও আলোচনা

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুর পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফর নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। ভারত এর আগে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। পাশাপাশি তাঁকে ব্রিকস সম্মেলনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে ব্রিকসের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেননি তিনি।

শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠক করার পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়ে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ওই অনুষ্ঠানের কারণে তারেক রহমানের ভারত সফরের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। ভারত অবশ্য জানিয়ে দেয়, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে তাদের কোনও ভূমিকা ছিল না এবং শেখ হাসিনার মন্তব্যকেও তারা সমর্থন করেনি। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে তারেক রহমানের ভারত সফরের এখনও কোনও নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Captain Smit Machchhar: এগুলোই বিশ্বের সেরা ৫টি ফ্লাইট! কিন্তু স্মিত মাচ্ছারের ফ্লাইদুবাই এয়ারলাইন কত নম্বরে জানেন?
Spain Flood: জলের তোড়ে রাস্তা দিয়ে ভাসছে ট্রেন লাইন, ভাঙছে বাড়ি। ভয়াবহ বন্যা স্পেনে