
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে নিজেকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা তেলসমৃদ্ধ দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রবিবার শেয়ার করা ওই পোস্টে ট্রাম্পের ছবির নীচে 'ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট, দায়িত্বপ্রাপ্ত জানুয়ারি ২০২৬' লেখা ছিল। ছবিটিতে তাঁকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম এবং ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে তিনি ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব নিয়েছেন।
অনলাইনে এই ঘোষণা সত্ত্বেও উইকিপিডিয়া বা অন্যান্য বহুল ব্যবহৃত পাবলিক রেকর্ডে ট্রাম্পকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়নি। এর পরিবর্তে যা নথিভুক্ত আছে তা হল মার্কিন সামরিক অভিযান, মাদুরোর গ্রেফতার এবং কারাকাসে বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত বিতর্কিত অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব।
সম্প্রতি, ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলা চালায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই অভিযানের সময় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেফতার করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাঁদের দু'জনের বিরুদ্ধেই মাদক-সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। এরপর থেকে ট্রাম্প বলেছেন যে, একটি নিরাপদ, সঠিক এবং বিচক্ষণ ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রশাসন তত্ত্বাবধান করবে। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে আরেকটি নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হতে দিলে তা ভেনেজুয়েলার স্বার্থের ক্ষতি করতে পারে। ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং তেলমন্ত্রী ডেলসি রদ্রিগেজ গত সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন যে, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করবে। তাঁর মতে, এই তেল বাজারদরে বিক্রি করা হবে এবং এর থেকে প্রাপ্ত অর্থ উভয় দেশের সুবিধার জন্য মার্কিন প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করবে। তিনি বলেন, জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটকে অবিলম্বে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তেলের ট্যাঙ্কার জাহাজের মাধ্যমে মার্কিন বন্দরে পরিবহন করা হবে।