
গত মাসের শেষের দিকে ২৬ অগস্ট হড়পা বানের জেরে বিধ্বস্তি হয়েছে নেপাল। এখন চলছে উদ্ধার কাজ। এই হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা দেড় হাজারেরও অনেকটা বেশি। এই ঘটনা রেশ কাটতে না কাটতে ফের কেঁপে উঠল নেপাল। ভূমিকম্প হল তিব্বতে। সেই কম্পন অনুভূত হয় নেপালেও। মঙ্গলবার এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৩। এর জেরে কোনও ক্ষতি হয়েছে কী না তা এখনও জানা যায়নি।
ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সেসমোলজিক্যাল সেন্টারের তথ্য অনুসারে, ৫.৩ মাত্রায় হয়েছিল কম্পন। এই কম্পনের উৎপত্তি স্থল ছিল ভূ পৃষ্ঠের প্রায় ৩৫ কিমি গভীরে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সেসমোলজি জানিয়েছে, ভারতীয় সময় রাত ৯টা ৩৮ মিনিটে এই ভূমিকম্প হয়। এর উৎসস্থল ছিল নেপালেই। জানা গিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ২০০ কিমি উত্তর পশ্চিমের মুস্তাংয়ের লোমানথাং এলাকায়। কম্পন অনুভূত হয়েছিল, মানাং, ডলপা, মিয়াগদি জেলাতেও। তবে, আপাতত কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে আসেনি।
প্রসঙ্গত, প্রসঙ্গত, চিন এবং নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লেন্দে নদীর তীর থেকে বিশাল আকারের কাদা এবং ধ্বংসস্তূপ খসে পড়ার ফলে এই ভয়ঙ্কর হড়পা বানের সৃষ্টি হয়েছে। তীব্র স্রোত ভোটকোশী এবং ত্রিশূলী নদীর গতিপথের গ্রাম এবং শহরগুলোর ওপর আছড়ে পড়েছে। বহু বাড়ি, রাস্তা, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র ভেসে গিয়েছে। সেই বানে নিহতের সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। তাদের মধ্যে আছেন ভারতীয়, আছে অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ড, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, আমারেকির নাগরিকও। এদিকে ভোটেকোশী নদীতে হড়পা বানের পরে এত দিন কেটে গেলেও এখনও নিখোঁজ বহু। বিপর্যস্ত এলাকায় উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নিখোঁজদের পরিজনেরা। অনেক নেপালি পরিবার নিখোঁজ আত্মীয়দের সন্ধান পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন। অনেকে প্রতীকী দাহ করেছেন। অনেকে কুশপুতুল তৈরি করে শেষকৃত্য করেছেন। তাদের দাবি এভাবে প্রিয়জনের আত্মা শান্তি পাবে। এরই মাঝে ফের হল ভূমিকম্প।