
ভারতে স্টারলিঙ্কের কমার্শিয়াল লাইসেন্স পাওয়া নিয়ে যা চলছে, তাকে 'উদ্বেগজনক' বললেন স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্ক। বৃহস্পতিবার (স্থানীয় সময়) তিনি এই মন্তব্য করেন। ভারতের সব নিয়ম মানা সত্ত্বেও তাঁর স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন কোম্পানি লাইসেন্স পাচ্ছে না বলে মাস্ক আগেই অভিযোগ করেছিলেন। এক্স (X) হ্যান্ডেলে সেই আলোচনায় যোগ দেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর কথার জবাবেই মাস্ক এই কথা বলেন। এক্স-এ মাস্ক লেখেন, "ধন্যবাদ রাহুল। এটা সত্যিই চিন্তার বিষয়।" ধন্যবাদ রাহুল। এটা সত্যিই চিন্তার বিষয়।
এর আগে মাস্ক দাবি করেছিলেন, পাঁচ বছর ধরে ভারতের সব নিয়মকানুন মেনে চলার পরও স্টারলিঙ্ক লাইসেন্স পাচ্ছে না। সেই পোস্টে রাহুল গান্ধী রিপ্লাই দিয়ে লেখেন, "ভারতে স্বাগত ইলন। অন্য লোকটার কীর্তি জানা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।" স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা স্টারলিঙ্কের লাইসেন্স পাওয়া নিয়ে এমনিতেই বিতর্ক চলছে। মাস্কের অভিযোগ, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তাঁদের ভারতের বাজারে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে। ঠিক এই আবহেই রাহুল ও মাস্কের এই কথোপকথন সামনে এল।
এর আগের একটি পোস্টে মাস্ক প্রশ্ন তোলেন, ১৬৫টির বেশি দেশে স্টারলিঙ্ক কাজ করার অনুমতি পেলেও ভারতে কেন এত দেরি হচ্ছে? তিনি লেখেন, "১৬৫টির বেশি দেশে স্টারলিঙ্কের লাইসেন্স আছে। ভারত সরকারের প্রতিটি নিয়ম মেনে আমরা পাঁচ বছর কাটিয়ে দিয়েছি, তাও কেন লাইসেন্স নেই? আম্বানিই কি ভারতের আসল বস?" মাস্কের মাস্কের এক্স পোস্টের রিপ্লাইয়ে রাহুল গান্ধী লেখেন, "ভারতে স্বাগত ইলন। অন্য লোকটার খোঁজ পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।" তারই উত্তরে নিজের উদ্বেগের কথা জানান ইলন মাস্ক।
ভারতে কেন স্টারলিঙ্ক দরকার, তা নিয়ে এক নেটিজেন পোস্ট করেছিলেন। তাঁর জবাবে মাস্ক অভিযোগ করেন, কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী তাঁদের বাজারে ঢুকতে দিচ্ছে না। তিনি বলেন, "দুর্ভাগ্যবশত, ভারতের মানুষের ওপর নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখতে কিছু পুঁজিপতি আমাদের (স্টারলিঙ্ক) আটকে দিচ্ছে। বুঝতেই পারছেন তারা কারা... এটা ভারতের মানুষের সঙ্গে অপরাধ।"
কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যাখ্যা
যদিও কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রক আগেই এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন সহ ভারতের টেলিকম পরিষেবার নিয়মকানুন সবার জন্য সমান এবং এখানে কোনও বৈষম্য নেই। মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানায়, নন-জিওসিনক্রোনাস স্যাটেলাইট অরবিট-ভিত্তিক সিস্টেমের মাধ্যমে কাজ করা তিনটি গ্লোবাল স্যাটেলাইট সার্ভিস প্রোভাইডারকে টেলিকম লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। ব্যবহারকারী এবং তাঁদের ডেটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব লাইসেন্সপ্রাপকদেরই নির্দিষ্ট নিরাপত্তা শর্ত মানতে হবে। মন্ত্রক আরও জানায়, "এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তিনটি কোম্পানিরই নিরাপত্তা মূল্যায়ন এখন চলছে।" এই মূল্যায়ন শেষ হলে কোম্পানিগুলো স্পেকট্রাম বরাদ্দের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপে যেতে পারবে। বিবৃতিতে বলা হয়, "বর্তমানে তিনটি সংস্থাই নিয়মের দিক থেকে একই স্তরে রয়েছে। তাই নিয়ম বা তার প্রয়োগকে বৈষম্যমূলক বলাটা একেবারেই ভিত্তিহীন ও ভুল।"
এদিকে, ৭ অক্টোবর ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস ২০২৬-এ স্টারলিঙ্কের বিজনেস অপারেশনস-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার জানান, তাঁরা ভারতের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করেছেন এবং ভারতের বাজারে পরিষেবা দিতে প্রস্তুত। ড্রেয়ার বলেন, স্টারলিঙ্ক ভারতে গ্রাউন্ড পরিকাঠামো তৈরি করেছে। এর মধ্যে শত শত অ্যান্টেনা যুক্ত ২০টি গেটওয়ে সাইট রয়েছে। পরিষেবা শুরু করার জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভারতীয় ব্যবহারকারীদের ডেটা দেশের ভেতরেই রাখা হচ্ছে। ড্রেয়ারের কথায়, "আমরা ভারতীয়দের ডেটা ভারতেই রাখছি।"ড্রেয়ারের মতে, ভারতের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করতে স্টারলিঙ্ক গত পাঁচ বছর ধরে ভারতীয় রেগুলেটর, শিল্পপতি এবং অপারেটরদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। ভারতের বাজারে ঢোকার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও নিরাপত্তায় তারা বিনিয়োগ করেছে বলে কোম্পানি দাবি করেছে। অন্যদিকে সরকার জানিয়েছে, লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়াটি এখনও নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং স্পেকট্রাম বরাদ্দের নিয়মের ওপর নির্ভরশীল।