
France Riots 2026: ঠিক যেন বাংলাদেশ (Bangladesh)! প্রথমে যা ছিল পড়ুয়াদের আন্দোলন, সেটা পরবর্তীকালে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জনপরিষেবার মান নিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভের আকার নিয়েছে। দাঙ্গা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের উপর হামলা চলছে। ফ্রান্সের ইতিহাসে দীর্ঘদিন পর এত হিংসাত্মক দাঙ্গা দেখা যাচ্ছে। প্যারিস-সহ (Paris) বিভিন্ন শহরে দাঙ্গা চলছে। বিভিন্ন সরকারি ভবনে হামলা হয়েছে। পরপর বিলাসবহুল দোকান এবং সুপারমার্কেটে লুটপাট চালানো হয়েছে। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশকর্মীদের উপরেও হামলা চালানো হয়েছে। মার্সেইয়ে (Marseille) কালো পোশাক পরা বিক্ষোভকারীরা সিটি হলে ঢুকে পড়ে ভবনের দেওয়ালে নৈরাজ্যবাদী স্লোগান ও গ্রাফিতি লিখে দেয়। অন্যদিকে, লিয়ঁ (Lyon) শহরে দাঙ্গাকারীরা পর্যটন দফতরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু (French Prime Minister Sebastien Lecornu) জানিয়েছেন, দেশজুড়ে প্রায় ১,২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি দাঙ্গায় বিধ্বস্ত হওয়া বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ (French Interior Minister Laurent Nunez) জানিয়েছেন, দেশজুড়ে বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষ। তবে শ্রমিক সংগঠন সিজিটি-র (CGT Union) দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা প্রায় আট লক্ষ।
আগামী বছর ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কয়েক মাস আগে দেশজুড়ে হিংসার ঘটনায় কড়া অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। হিংসার কাছে সরকার মাথা নত করবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। এই অশান্তির জন্য অতি-বামপন্থী গোষ্ঠী এবং অপরাধীদের দায়ী করেছেন লেকর্নু। 'এক্স' হ্যান্ডলে এক পোস্টে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী লেখেন, 'যারা স্পষ্টতই আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এই হিংসাকে প্রস্তুতিপর্ব হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে, তাদের বলে দিতে চাই, আমরা ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাব না। হিংসার মাধ্যমে কেউ নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি চাপিয়ে দিতে পারবে না।' অন্যদিকে, হিংসাত্মক হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ এবং শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁ (President Emmanuel Macron)। 'এক্স' হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘যারা বিশৃঙ্খলা ছড়ায়, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করতে চায় এবং শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি জানাতে চাওয়া মানুষদের সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব।’ আগামী বছর ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এই অশান্তি রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।