
শনিবার ডিপার্টমেন্ট অফ কমিউনিটি মেডিসিন অ্যান্ড স্কুল অফ পাবলিক হেলথ-এর প্রফেসর রবীন্দ্র খাইওয়াল জানিয়েছেন, নেপালের সাম্প্রতিক বন্যার মূল কারণ শুধু মৌসুমী বৃষ্টিপাত নয়। এর পিছনে রয়েছে আরও গভীর ভূতাত্ত্বিক অস্থিরতা এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল জলবায়ু।
খাইওয়ালের মতে, “হিমালয় অঞ্চলটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম সংবেদনশীল এলাকা। ইউরেশিয়ান এবং ইন্ডিয়ান প্লেট একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খাচ্ছে, যার ফলে এই অঞ্চলটি অত্যন্ত অস্থির এবং ভূমিকম্প, ভূমিধস ও তুষারধসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর মূল কারণ হল ভূতাত্ত্বিক অস্থিরতা এবং জলবায়ু পরিবর্তন। বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে তাপমাত্রা বাড়ছে, যার ফলে হাজার হাজার বছর ধরে জমে থাকা হিমালয়ের বরফ (পারমাফ্রস্ট) গলে যাচ্ছে। হিমবাহগুলি পিছু হটছে এবং মাটি আলগা হয়ে যাচ্ছে।”
এই পরিস্থিতিতে ভোটেকোশী বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৬২৬-এ পৌঁছেছে। ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (NDRRMA) জানিয়েছে, এখনও ২,৪২৬ জন নিখোঁজ।
শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত, নেপাল সেনাবাহিনী এবং উদ্ধারকারী দল সেনা হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ২,২৬৫ জনকে উদ্ধার করেছে, যাঁদের মধ্যে ১৬৩ জন বিদেশি নাগরিক। এছাড়াও অভিযানে আরও ২০০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। জরুরি চিকিৎসা কেন্দ্রে ১,৭০৬ জন আহত ব্যক্তির চিকিৎসা চলছে। নেপাল সেনাবাহিনী উদ্ধার ও ত্রাণকার্যে প্রায় ৬,৭০০ জওয়ান মোতায়েন করেছে।
উদ্ধার হওয়া মৃতদেহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৩৩টি দেহ মিলেছে চিতওয়ান থেকে। এরপর নওয়ালপরাসি পূর্ব থেকে ১৫৮টি, নুয়াকোট থেকে ৫১টি, গোরখা থেকে ৪৮টি, নওয়ালপরাসি পশ্চিম থেকে ৪৭টি, ধাদিং থেকে ৪৫টি, তানাহুন থেকে ৩১টি এবং রাসুয়া থেকে ১৩টি দেহ উদ্ধার হয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে ২৭ জন নেপাল পুলিশ, ৪৫ জন নেপাল সেনাবাহিনী, ১৩ জন সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী, ১৫ জন কাস্টমস অফিস এবং চারজন ইমিগ্রেশন অফিসের কর্মী রয়েছেন।
ভারত নেপালের জন্য ত্রাণ ও উদ্ধারকার্যে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। শুক্রবার ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে তৃতীয় বিমানটি কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছে। নেপালের মন্ত্রী মহাবীর পুনের হাতে এই ত্রাণ তুলে দেওয়া হয়। ভারত উদ্ধারকাজে সাহায্যের জন্য ১১ সদস্যের একটি মেডিকেল ও টানেল রেসকিউ টিমও পাঠিয়েছে। (ANI)