
পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI) নেতা ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ফের জোরালো জল্পনা তৈরি হয়েছে। এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের বিস্ফোরক দাবিকে ঘিরে নতুন করে ছড়িয়েছে ইমরান খানের মৃত্যুর গুঞ্জন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ইমরান খান মারা গিয়েছেন—এমন কোনও নির্ভরযোগ্য সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনও পাওয়া যায়নি। বরং অতীতেও তাঁর মৃত্যু নিয়ে ছড়ানো একই ধরনের দাবিকে ভিত্তিহীন বলে খারিজ করা হয়েছিল।
জেলবন্দি ইমরান খানের সঙ্গে পরিবারের সদস্য ও দলীয় নেতাদের যোগাযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেও তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি এবং চোখের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠরা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও তাঁর স্বাস্থ্য ও জেলবন্দি অবস্থার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে।
সম্প্রতি এক পাকিস্তানি সাংবাদিক দাবি করেছেন, কিছু সামরিক সূত্রের মধ্যে ইমরান খান জেলে মারা গিয়েছেন বলে আলোচনা চলছে। এই দাবি প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। তবে এই বক্তব্যের পক্ষে কোনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।
ফলে ইমরান খানের মৃত্যু নিয়ে এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সংবেদনশীল দাবির ক্ষেত্রে সরকারি বিবৃতি, পরিবারের বক্তব্য অথবা একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের স্বাধীন যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি। তাঁর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ এবং যোগাযোগ নিয়ে আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরেও তাঁর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল। সেই সময় PTI এই খবরকে ভিত্তিহীন গুজব বলে দাবি করেছিল এবং জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ইমরান খান সুস্থ রয়েছেন।
সেই ঘটনার পর থেকেই ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে যেকোনও খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সাক্ষাতের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় জল্পনা আরও বাড়ে।
২০২৬ সালের শুরুতে ইমরান খানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার খবর সামনে আসে। তাঁর আইনজীবী ও ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি ছিল, চিকিৎসায় দেরির কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তাঁর চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যপরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নতুন করে তাঁর মৃত্যুর দাবি সামনে আসায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির কারাবন্দি অবস্থার বিষয়টি সরাসরি ইসলামাবাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওকে অনুরোধ করেছেন আমেরিকার ১৩ জন আইনপ্রণেতা। দুই দলের এই আইনপ্রণেতারা একটি চিঠিতে ইমরান খান ও বুশরা বিবির আটক অবস্থার পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তান সরকারের কাছে বিষয়টি তুলতে রুবিওকে আহ্বান জানিয়েছেন।
চিঠিতে রাষ্ট্রসংঘের এক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ারের উদ্বেগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ইমরান খানের দীর্ঘদিনের একাকী কারাবাস এবং তাঁর শারীরিক সুস্থতা নিয়ে ওঠা বিভিন্ন দাবির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখার বিষয়টিও আন্তর্জাতিক মহলের নজরে এসেছে।
ইমরান খান বর্তমানে পাকিস্তানে একাধিক মামলায় কারাবন্দি। তাঁর দীর্ঘ কারাবাস, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং জেলে তাঁর চিকিৎসা ও থাকার পরিস্থিতি নিয়ে এর আগেও বারবার প্রশ্ন উঠেছে। এবার মার্কিন আইনপ্রণেতাদের হস্তক্ষেপের আহ্বানে বিষয়টি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে আরও গুরুত্ব পেল।